কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ শহরের রাস্তায় যেখানে-সেখানে থুতু ফেলা, প্রস্রাব করা কিংবা নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা-এবার আর ‘চলবে’ না। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন থেকেই এ ধরনের কাজের জন্য জরিমানার ব্যবস্থা কার্যকর করল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। ন্যূনতম ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। মঙ্গলবার নিজের দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে আগেই বিষয়টি নিয়ে প্রচার চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শুধু জরিমানা আদায় করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়। বরং জরিমানার ব্যবস্থা করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই মূল লক্ষ্য।
কোন কোন কাজের ক্ষেত্রে জরিমানা? মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তায় থুতু ফেলা বা মলমূত্র ত্যাগ করলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। একই ভাবে রাস্তার ধারে বেআইনি ভাবে গাড়ি পার্কিং করা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাড়ি তৈরির সময়ে রাস্তার উপর বা পাশে বালি, সিমেন্ট, স্টোনচিপস কিংবা নির্মাণবর্জ্য ফেলে রাখলেও জরিমানার মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্টকে।
শুধু রাস্তাঘাট নয়, পরিবেশের বিষয়টিও থাকছে এই অভিযানের আওতায়। ১২০ মাইক্রনের কম পুরু প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করা হলেও জরিমানার ব্যবস্থা থাকছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। অর্থাৎ বাজারে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়বে।
তবে জরিমানার টাকা কী ভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর দাবি, নগদে নয়, ডিজিটাল পদ্ধতিতেই জরিমানা আদায় করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়। মূল লক্ষ্য নাগরিকদের আচরণে পরিবর্তন আনা এবং শহরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা।
মন্ত্রী বলেন, অন্য শহরগুলির মতো বাংলার শহরগুলিকেও পরিচ্ছন্ন করে তুলতে নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁর কথায়, এত দিন যে ভাবে চলেছে, এখন থেকে তা আর চলবে না।
ফলে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শহরবাসীর জন্য বার্তা স্পষ্ট রাস্তা শুধু চলাচলের জায়গা নয়, পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও নাগরিকের। আর নিয়ম ভাঙলে এবার তার মূল্যও দিতে হবে।






