মেদিনীপুর, ১২ সেপ্টেম্বরঃ টানা জেরায় ভাঙলেন? সিআইডির দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, কোটি কোটি টাকার লেনদেনের নেপথ্যে রয়েছে আরও এক ‘বড় মাথা’ জেরায় এমনই তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই টাকা উদ্ধারে তদন্তকারীদের সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন সুমিত।
আর এখানেই নতুন মোড় শালবনি জমি-কাণ্ডে। ‘বড় মাথা’ বলতে কাকে বোঝাতে চেয়েছেন সুমিত? তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কি এবার আরও কোনও প্রভাবশালীর দিকে তদন্তের অভিমুখ ঘুরবে? স্বাভাবিক ভাবেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
মেদিনীপুর আদালতে জমা দেওয়া নথিতে সুমিতকে জেরা করে পাওয়া এই তথ্যের উল্লেখ করেছে সিআইডি। তদন্তকারীদের দাবি, শালবনি থানার অন্তর্গত বিস্তীর্ণ সরকারি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে ছোট ছোট প্লটে ভাগ করে বিক্রি ও হস্তান্তরের অভিযোগের তদন্তে সুমিতের সক্রিয় ভূমিকা এবং বিপুল অঙ্কের বেআইনি আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা-সহ দু’জন গ্রেফতার হয়েছেন। তদন্তের পরিধি অবশ্য সেখানেই থামছে না। এক প্রোমোটার এবং এক হোটেল মালিক-সহ আরও কয়েক জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজন হলে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।
সুমিতের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ থাকাকালীন তাঁকে ভবানী ভবনে একাধিক দফায় জেরা করেছিল সিআইডি। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে রাজ্য ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। পরে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার হলে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
শুক্রবার মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হলে সিআইডি আট দিনের হেফাজত চায়। মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অতনু মণ্ডল সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
আপাতত ভবানী ভবনে চলছে টানা জেরা। আর সিআইডির নথিতে উঠে আসা ‘বড় মাথা’র পরিচয় ঘিরেই এখন শালবনি-কাণ্ডে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নেপথ্যের সেই মাথা কে?






