নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: টিনের বেড়া দেওয়া দু’টি ঘর। মাটির মেঝে। বাইরে থেকে দেখলে নিতান্তই সাধারণ, অভাবের সংসার। কিন্তু সেই মাটির নীচেই যে এমন ‘গোপন ভান্ডার’ লুকিয়ে থাকতে পারে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি প্রতিবেশীরা। পুলিশ মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল প্লাস্টিকের বালতি, কলস। আর তার ভিতর প্লাস্টিকে মোড়া গাঁজা। ঘরের এ দিক-ও দিক ছড়িয়ে থাকা ব্যাগ, বস্তা, কাপড়ের তলা থেকেও মিলল রাশি রাশি টাকা। পুলিশের দাবি, সব মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা এবং প্রায় ৬ কিলোগ্রাম ৪০০ গ্রাম গাঁজা।
ঘটনা আলিপুরদুয়ার পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যনগর এলাকার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ একটি বাড়িতে হানা দেয় আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। অভিযুক্ত গাঁজা ব্যবসায়ী বাবন বল তখন বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর বোন বাড়িতে থাকায় মহিলা পুলিশকর্মীদের উপস্থিতিতে শুরু হয় তল্লাশি।
পুলিশের দাবি, প্রথমে বাড়ির অগোছালো পরিস্থিতিই নজরে আসে তদন্তকারীদের। একটি ঘরের মেঝেতে প্লাস্টিকের বস্তা এবং নানা জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিল। সন্দেহ হওয়ায় সেগুলি সরিয়ে মাটি পরীক্ষা করতেই শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় একাধিক প্লাস্টিকের বালতি ও জলের কলস। ভিতরে রাখা ছিল গাঁজা। পরে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় নগদ টাকা।
উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যেও ছিল বৈচিত্র্য। ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার নোটের পাশাপাশি মিলেছে ৫ এবং ১০ টাকার কয়েনও। ছড়িয়ে থাকা টাকা এক জায়গায় এনে গুনে দেখে পুলিশ। তার পরেই মেলে প্রায় ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকার হিসাব। বাজেয়াপ্ত করা হয় মাদকও।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। যাঁরা এত দিন বাড়িটির বাসিন্দাদের কষ্টে দিন কাটাতে দেখেছেন, তাঁরাই এখন হতবাক। স্থানীয়দের বক্তব্য, ভাই-বোনের সংসারটি অভাবের বলেই তাঁদের ধারণা ছিল। সেই বাড়িতে মাদক এবং বিপুল নগদ টাকার কারবার চলছিল বলে তাঁরা ভাবতেই পারেননি।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় বাবন বল পালিয়ে যান। বাড়িতে থাকা তাঁর বোনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক অভিযুক্তের সন্ধানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ এবং নগদের অঙ্ক দেখে শুধু স্থানীয় স্তরে গাঁজা বিক্রির বিষয়টি নয়, এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্য কোনও মাদক, বিশেষ করে ব্রাউন সুগারের কারবারের সঙ্গেও যোগ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, মাদকের জোগানদার এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের সন্ধান সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





