কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ শালবনীর জমি জালিয়াতি মামলায় এ বার তদন্তের নথিতে উঠে এল টাকার ‘রুট’। মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা চার্জশিটে সিআইডির দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল অর্থের একাংশ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের অফিসে পৌঁছে দেওয়া হত। সেই টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজে সুজয় হাজরার ভূমিকা ছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের। শুধু তাই নয়, মামলার তদন্তে অভিষেকের দুই প্রাক্তন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং সুজয় হাজরার গাড়িচালকের গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।
২০১৮ থেকে ২০২১ প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজতেই তদন্তকারীরা একাধিক ব্যক্তির বয়ান রেকর্ড করেছেন। চার্জশিটে সাক্ষী হিসাবে থাকা দুই স্থানীয় ব্যবসায়ীর বক্তব্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সিআইডি। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যবসায়ীরা নিজের চোখে সুজয় হাজরাকে সুমিত রায়ের হাতে টাকা তুলে দিতে দেখেছেন। এত দিন কেন তাঁরা মুখ খোলেননি, সেই প্রশ্নেরও উত্তর মিলেছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের। তাঁদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের ‘প্রভাব-প্রতিপত্তি’র ভয়েই এত দিন চুপ ছিলেন ব্যবসায়ীরা।
মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সুমিত রায়ের গ্রেফতারিও। সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা উঠে যাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এর পর ভবানীভবনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলে। তদন্তকারীদের দাবি, কোটি কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সেই কারণেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে জানায় সিআইডি।
শুক্রবার কড়া নিরাপত্তায় সুমিতকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত তাঁকে আট দিনের সিআইডি হেফাজতে পাঠায়। তদন্তকারীদের আরও দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত নাকি কিছু অভিযোগ স্বীকার করেছেন এবং এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আরও কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সেই দাবিগুলি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে; আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।
এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন। টাকা কোথা থেকে আসত? কার মাধ্যমে ঘুরে কোথায় পৌঁছত? জমি জালিয়াতির অর্থের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগ কতটা গভীর? এবং শেষ পর্যন্ত সেই অর্থের প্রকৃত গন্তব্যই বা কোথায়?
চার্জশিটে সাক্ষীদের বয়ান, গোপন জবানবন্দি এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র সব মিলিয়ে তদন্তের পরিধি যে আরও বিস্তৃত হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত মিলছে। ফলে শালবনী জমি মামলায় এখন শুধু জমি জালিয়াতির অভিযোগ নয়, নজরে এসেছে টাকার গতিপথও। সেই পথ ধরে তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছয়, আপাতত সেটাই দেখার।





