কোচবিহার, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ পৃথক রাজ্যের দাবি নতুন নয়। তবে পুজোর মুখে ফের সেই দাবিতেই সরব কোচবিহার। কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে সোমবার কোচবিহার শহরে মিছিল করল কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কমিটি। মিছিল শেষে জেলাশাসকের দফতরে দেওয়া হল ডেপুটেশন। জেলাশাসকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের উদ্দেশেই ওই ডেপুটেশন পাঠানো হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি।
কেএসডিসি-র মূল দাবির কেন্দ্রে তিনটি বিষয়। প্রথমত, পৃথক গ্রেটার কোচবিহার বা কামতাপুর রাজ্য পুনর্গঠন। দ্বিতীয়ত, কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্বীকৃতি। তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে জনজাতির স্বীকৃতি দেওয়া। এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই এ দিন শহরের রাস্তায় মিছিল করেন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা।
তবে শুধু পৃথক রাজ্য বা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতেই থামেনি কেএসডিসি। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা কেএলও-র প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাদের ডেপুটেশনে। কেএলও-র সুপ্রিমো জীবন সিংহের সঙ্গে কেন্দ্রের যে শান্তি আলোচনা চলছে, তা দ্রুত চূড়ান্ত চুক্তিতে পরিণত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি তপতি রায় মল্লিকের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এই দাবিগুলি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দাবিগুলি পূরণ হয়নি। তাঁর হুঁশিয়ারি, দ্রুত দাবিগুলি নিয়ে পদক্ষেপ না হলে আগামী দিনে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
কোচবিহারের রাজনীতিতে পৃথক রাজ্যের দাবি অবশ্য বহু পুরনো। গ্রেটার কোচবিহার, কামতাপুর এবং কোচ-রাজবংশী পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে একাধিক সংগঠন আন্দোলনে নেমেছে। কখনও সেই আন্দোলন প্রশাসনিক দাবিতে সীমাবদ্ধ থেকেছে, কখনও আবার তা বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়েছে। ফলে কেএসডিসি-র এ দিনের মিছিলও উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে সেই দাবিগুলিকে সামনে নিয়ে এল।
এখন দেখার, কেএসডিসি-র ডেপুটেশনের পর কেন্দ্র বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না। আপাতত সংগঠনের বার্তা স্পষ্ট দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বড় আকার নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।





