কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ বর্ষা বিদায়ের সুর। শরতের নীল আকাশে পুজোর গন্ধও ক্রমশ স্পষ্ট। তারই মধ্যে কলকাতার এক দুর্গাপুজো ঘিরে রাজনীতির রং আরও গাঢ়। মণ্ডপে এ বার দেবীর সঙ্গে থাকছে নন্দীগ্রাম থেকে নবান্নে পৌঁছনোর রাজনৈতিক কাহিনি। আর সেই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে রুবি মোড়ের এই পুজোর থিম ‘নন্দীগ্রাম থেকে নবান্ন/বুবাইয়ের জয়যাত্রা’।
পুজোর প্রস্তুতির মধ্যেই উদ্যোক্তাদের দাবি, এই আয়োজনের জন্য দিল্লি থেকে এসেছে শুভেচ্ছাবার্তা। হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে সংগঠনের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পুজোয় ‘গেস্ট অব অনার’ হিসাবে আমন্ত্রণ জানান। তাঁদের বক্তব্য, এর পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফোন এবং রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে পুজোর আয়োজনের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ শুভেন্দুকে ঘিরে এমন থিম কেন? চন্দ্রচূড়ের ব্যাখ্যা, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলকে তাঁরা একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই রাজ্যে শুভেন্দুর নেতৃত্বে সনাতনী জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই রাজনৈতিক যাত্রাকেই মণ্ডপের ভাষায় তুলে ধরতে চান তাঁরা।
মণ্ডপের ভিতরে ছবি ও ব্যানারের মাধ্যমে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের বিভিন্ন পর্ব তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন চন্দ্রচূড়। শুধু মণ্ডপসজ্জাতেই থেমে থাকছে না আয়োজন। তৈরি হবে একটি তথ্যচিত্রও। কাঁথির ঘরের ছেলে ‘বুবাই’-এর নন্দীগ্রামের আন্দোলন থেকে নবান্নে পৌঁছনোর কাহিনি শর্ট ফিল্মের আকারে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
আরও এক ধাপ এগিয়ে সাধারণ মানুষকেও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বার্তা পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের দাবি, দর্শকরা হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের স্লোগান বা বার্তা দিতে পারবেন। সংগঠনের তরফে সেই বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
পুজোয় আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীকে। আমন্ত্রণের তালিকায় থাকছেন মুখ্যমন্ত্রীর বাবা-মাও। ফলে এ বার রুবি মোড়ের এই পুজোমণ্ডপে শুধু দেবীর আরাধনাই নয়, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের এক বিশেষ আখ্যানও দর্শকদের সামনে হাজির হতে চলেছে।





