কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ একই প্রতীক। দুই দাবিদার। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির, অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। তৃণমূলের দলীয় নিয়ন্ত্রণ এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের মালিকানা ঘিরে যে রাজনৈতিক টানাপড়েন, তা এ বার পৌঁছে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের দরজায়। আর ঠিক যখন রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখনই প্রতীক-যুদ্ধ আরও এক ধাপ এগোল।
শনিবার দিল্লির নির্বাচন সদনে দুই শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন কমিশনের কর্তারা। সেই বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে আগামী বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টের মধ্যে নিজেদের চূড়ান্ত বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সেই নথির একটি প্রতিলিপি ঋতব্রত শিবিরকেও দিতে হবে।
এর পরেই প্রশ্ন তাহলে কি ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল? কালীঘাটের বক্তব্য অবশ্য তেমন নয়। বরং কমিশনের চিঠিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই দেখছে তারা। শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কমিশন এখনও কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি। তাঁর দাবি, সেই কারণে উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীরা দলের প্রচলিত প্রতীকেই লড়বেন।
কালীঘাটের এই আত্মবিশ্বাসের পিছনে রয়েছে ‘স্থিতাবস্থা’র যুক্তি। তাদের বক্তব্য, প্রতীক ব্যবহারের উপর কমিশনের তরফে এখনও কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। ফলে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থাই কার্যকর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবিরও কমিশনের সামনে নিজেদের দাবির পক্ষে একাধিক নথি পেশ করেছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠি, ১২ সেপ্টেম্বরের ই-মেল, আলিপুর আদালতের তিনটি নির্দেশের কপি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের একটি চিঠি এবং ৫ জুনের একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সেই নথির ভিত্তিতেই মমতা শিবিরের কাছে পাল্টা বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।
এখানেই তৈরি হয়েছে সময়ের অঙ্ক। ১৬ সেপ্টেম্বরই উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। আবার প্রয়োজন হলে তার পরের দিন, ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় দিল্লির নির্বাচন সদনে দুই পক্ষকে নিয়ে বিশেষ শুনানি হতে পারে। নথিপত্র খতিয়ে দেখে কমিশন সেদিনই প্রতীক নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে।
আগামী ৬ অক্টোবর ভোট নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে। ফল ৯ অক্টোবর। কিন্তু তার আগেই মীমাংসা করতে হবে আরও বড় এক প্রশ্নের ‘জোড়াফুল’ কার?
রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে দুই শিবির মুখোমুখি। আর নির্বাচন কমিশনের টেবিলে জমা পড়ছে একের পর এক নথি। আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা নেই এই জায়গাটিই কালীঘাটের স্বস্তি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অধরা। তাই উপনির্বাচনের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই প্রতীকের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন নজর সেদিকেই।





