আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

পুজোর মঞ্চে রাজনীতির ফিতে নয়, গুণীজনের হাত-গণেশপুজোর আগে শমীকের বার্তাকে সমর্থন দিলিপের

Published on: September 13, 2026
---Advertisement---

কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ উৎসবের মঞ্চ কি রাজনীতির মঞ্চও? এত দিন বাংলার পুজোর সঙ্গে এই প্রশ্নটা যেন অঙ্গাঙ্গি জড়িয়ে ছিল। ক্লাবের পুজো, উদ্বোধনের মঞ্চ, ফিতে কাটা সর্বত্রই রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ছিল পরিচিত ছবি। কিন্তু সরকার বদলের পর সেই ছবিটাই বদলাতে চাইছে বিজেপি। দুর্গাপুজোর আগে গণেশপুজোর প্রাক্কালে অন্তত তেমনই বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট উৎসবের সূচনায় রাজনৈতিক নেতাদের বদলে জায়গা দেওয়া হোক সমাজের গুণীজন, স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বদের। অর্থাৎ, পুজোর মঞ্চে রাজনীতির ছায়া নয়, সামনে থাকুক সমাজের বিশিষ্ট মানুষেরা।

সোমবার গণেশপুজো। তার পরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এটাই প্রথম বড় দুর্গোৎসব। ফলে পুজোকে ঘিরে নতুন সরকারের অবস্থান কী, তা নিয়ে কৌতূহলও রয়েছে। সেই আবহেই শমীকের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিগত তৃণমূল সরকারের সময়ে পুজোর উদ্বোধন ঘিরে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ছিল প্রায় নিয়মিত দৃশ্য। মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী, বিধায়ক কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন ক্লাব ও পুজো কমিটির মঞ্চে তাঁদের দিয়ে ফিতে কাটানো বা উদ্বোধন করানো নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও বার বার প্রশ্ন উঠেছে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সেই সংস্কৃতিতেই বদল আনতে চায় নতুন সরকার। উৎসবকে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখাই লক্ষ্য। যদিও এই অবস্থান কতটা বাস্তবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। কারণ বাংলার পুজো শুধু ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, তার সঙ্গে স্থানীয় সমাজজীবন এবং রাজনীতিরও দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে।

শমীকের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও। রবিবার সকালে নিউ টাউনের ইকো পার্কে মর্নিং ওয়াকে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, নিজে কোনও রাজনৈতিক নেতাকে পুজোয় যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন না। বরং পুজোর উদ্বোধনে সমাজের বিশিষ্টদের সামনের সারিতে রাখার পক্ষেই সওয়াল করেন তিনি।

দিলীপের প্রস্তাবের তালিকাটাও যথেষ্ট স্পষ্ট। দেশ ও সমাজের গর্ব পদ্মভূষণ বা পদ্মবিভূষণের মতো সম্মানে ভূষিত ব্যক্তিদের দিয়ে উৎসবের সূচনা করানো যেতে পারে। এমনকি আগের সরকারের আমলে সম্মানিত হলেও যাঁদের কোনও প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় আনুগত্যের তকমা নেই, তাঁদেরও পুজোর মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো উচিত বলে মত তাঁর।

অর্থাৎ, ফিতে কাটার হাতটা এবার বদলানোর ডাক। নেতা নয় শিল্পী, সাহিত্যিক, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ কিংবা অন্য কোনও কৃতী মানুষ। গণেশপুজোর আগে বিজেপির বার্তায় তাই শুধু একটি উৎসবের উদ্বোধন নয়, বদলে দেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে বাংলার পুজোর রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment