সিতাই, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ একই দিনে দু’টি ঘটনা। এক দিকে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে আগুন। অন্য দিকে সাংসদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ। আর এই জোড়া ঘটনায় রবিবার কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের সিতাই। সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার বাড়ি ফেরার পরই ঘটনাগুলি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
রবিবার দুপুরে সিতাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগে। আচমকা আগুনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। কী ভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এর মধ্যেই এ দিন সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার বাড়ির সামনে জড়ো হন স্থানীয় মানুষজন এবং বিজেপি কর্মীদের একাংশ। সেখানে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন সাংসদ। তাঁদের দাবি, রাইস মিল-সহ একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন তিনি।
যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সাংসদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলেও জানা গিয়েছে।
বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করা হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, এক সময় ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। পরে তৃণমূলে যোগ দেন। বর্তমানে বিজেপিতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের। এমনকি তাঁকে বিজেপিতে যোগ দিতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ।
ফলে আগুনের ঘটনা আর বিক্ষোভ দুই ঘটনাকে ঘিরেই সিতাইয়ের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাংসদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সে জন্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। এক দিকে দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগার কারণ নিয়ে তদন্ত, অন্য দিকে সাংসদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্য সব মিলিয়ে রবিবার সিতাইয়ে যেন একই ছবির দু’টি দিক সামনে এল। এখন নজর, আগুনের নেপথ্যের কারণ তদন্তে কতটা স্পষ্ট হয় এবং বিক্ষোভকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে গড়ায়।





