আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

খাবারে ‘নেশা’ মিশিয়ে অচেতন? সকালে ভাঙা শোকেস, মাথাভাঙায় ৪ লক্ষাধিক টাকা চুরির অভিযোগ

Published on: September 13, 2026
---Advertisement---

মাথাভাঙ্গা, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ খাবার খাওয়ার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্যেরা। কেউ দোকানে গিয়ে অসুস্থ বোধ করেছেন, কেউ আবার বাড়ির দরজার কাছেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাতের সেই সময়টুকু যেন পরিবারের কারও স্পষ্ট মনে নেই। সকালে ঘুম ভাঙতেই সামনে আসে অন্য ছবি খোলা দরজা, ভাঙা শোকেস, উধাও নগদ টাকা এবং সোনার গয়না।

মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের বৈরাগীরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অশোকবাড়ি এলাকায় এমনই এক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল সরকারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, দুপুরের খাবারে কোনও নেশাজাতীয় বা চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে দেওয়ার পর তাঁদের অসুস্থ বা অচেতন হওয়ার সুযোগে রাতে বাড়িতে ঢুকে চুরি করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও খাবারে সত্যিই কোনও এমন পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল দুপুরে বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজের দোকানে চলে যান দুলাল। কিন্তু দোকানে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বেশি দেরি না করে বাড়িতে ফিরে আসেন। একই সময়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর তাঁর স্ত্রীও অসুস্থ বোধ করেন এবং বাড়ির সামনের দরজার কাছে ঘুমিয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।

এর পর রাতের বেশ কিছুটা সময় কী ভাবে কেটেছে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দুলালের স্ত্রী দেখতে পান, বাড়ির দরজা খোলা। সন্দেহ হওয়ায় ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, শোকেস ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। তল্লাশি চালিয়ে পরিবারের সদস্যেরা দাবি করেন, ঘরে রাখা নগদ প্রায় চার লক্ষাধিক টাকা নেই। পাশাপাশি দুলালের স্ত্রীর কানের সোনার গয়নাও খোয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার পরই পরিবারের মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক। তাঁদের সন্দেহ, পরিকল্পনা করেই খাবারের সঙ্গে কোনও চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় পদার্থ মেশানো হয়েছিল। সেই কারণে পরিবারের সদস্যেরা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর রাতের কোনও এক সময় দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে চুরি করেছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

তবে এই অনুমানই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। খাবারের নমুনা বা পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থার কোনও পরীক্ষায় চেতনানাশক ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। বাড়ির দরজা কী ভাবে খোলা হল, চুরির সময় পরিবারের সদস্যদের অবস্থাই বা কী ছিল, বাইরে থেকে কেউ বাড়িতে ঢুকেছিল কি না-সবই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ঘটনার পর মাথাভাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এলাকার বিধায়িকা সাবিত্রী বর্মন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা এটি নিছক চুরি, নাকি তার নেপথ্যে ছিল আরও পরিকল্পিত কোনও কৌশল।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment