হিঙ্গলগঞ্জ, ১২ সেপ্টেম্বরঃ ভোটে জিতেছেন। বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু দলের অন্দরেই কি তবে সম্মানের লড়াই? নিজের দলের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই এ বার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র। তাঁর দাবি, পড়াশোনা জানেন না এই ‘দুর্বলতা’র সুযোগ নিয়ে তাঁকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা করেন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার নেতারা। এমনকি দলীয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে ডেকে ‘অপমান’ করা হয় বলে অভিযোগ বিধায়কের। ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকেই তাকিয়ে রেখা।
রেখার কথায়, ‘‘জেলা থেকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাই জেলার সব অনুষ্ঠানে যাই না। নিজের বিধানসভার কাজ নিয়েই থাকি। এটা আমার দল। তাই এত দিন চুপ ছিলাম। আমি চাই দলের কাছে এই বার্তাটা পৌঁছাক। দল বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিক।’’
বসিরহাটের রাজনীতিতে রেখা পাত্রের উত্থানই ছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে। সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় সামনে এসেছিলেন তিনি। পরে বিজেপির প্রার্থী হয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হিঙ্গলগঞ্জ থেকে জয়ী হন। কিন্তু ভোটে জয় এলেও দলের সাংগঠনিক পরিসরে তাঁকে ‘কোণঠাসা’ করার চেষ্টা হচ্ছে এবার এমনই অভিযোগ তুললেন সেই রেখা।
শুধু জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ নয়, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও কটাক্ষের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমি পড়াশোনা জানি না বলে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার কমিটি আমাকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা করে। অনুষ্ঠানে ডেকেও আমাকে সব সময় অপমান করে।’’
তবে এখানেই থামেননি রেখা। তাঁর নিশানায় দলের একাংশের ‘প্রচারসর্বস্ব’ রাজনীতিও। বিধায়কের বক্তব্য, ‘‘অনেকে বড় নেতা হওয়ার, সমাজমাধ্যমে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। আমি রাজনীতি করতে আসিনি, মানুষের সমস্যা সমাধানে ২৪ ঘণ্টা কাজ করি। প্রচার করি না।’’
তবে দলের প্রতি আস্থা হারাননি বলে স্পষ্ট করেছেন রেখা। তাঁর কথায়, ‘‘সাংগঠনিক স্তরের নেতারা কী করেন, তা নিয়ে তো দল চলে না। ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে।’’
রেখার অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ জেলা নেতৃত্বের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, জেলা কমিটির কর্মী এবং বিধায়ক হিসেবে রেখা পাত্র যে সম্মান পাওয়ার যোগ্য, তা দেওয়ারই চেষ্টা করা হয়েছে।
ফলে প্রকাশ্যে এল বিজেপির অন্দরেই নতুন টানাপড়েনের ছবি। বিধায়কের অভিযোগের পর দলীয় নেতৃত্ব কী ভাবে বিষয়টি মেটায়, আপাতত সেটাই দেখার। কারণ, নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সামনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার চ্যালেঞ্জের মধ্যেই জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিধায়কের এমন প্রকাশ্য ক্ষোভ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।





