কেষ্টপুর, ১২ সেপ্টেম্বরঃ মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল ছেলেকে এক বার চোখের দেখা দেখবেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। প্রায় দু’বছর জেলবন্দি থাকার পর মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন চিন্ময় প্রভু। মায়ের শেষকৃত্যে পৌঁছেও চোখের জলে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেই ছবি ছুঁয়ে গিয়েছে বহু মানুষকে। এ বার চিন্ময় প্রভুর সেই যন্ত্রণার সঙ্গে নিজের পরিবারের ইতিহাস মিলিয়ে দেখলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, দেশভাগের সময়ে হিন্দু হওয়ার ‘অপরাধে’ তাঁর মাকেও নাকি এক কাপড়ে ওপার বাংলা ছাড়তে হয়েছিল।
শনিবার কেষ্টপুরে গণেশপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠতেই নিজের পরিবারের সেই পুরনো ক্ষতের কথা সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমার নিজের জীবনেও যন্ত্রণা রয়েছে। হিন্দু বলে আমার মাকেও তাঁর বাবার হাত ধরে এক কাপড়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে।”
শুভেন্দুর দাবি, তাঁর মা গায়ত্রী দেবীর পরিবার আদতে ওপার বাংলার বাসিন্দা ছিল। দেশভাগের সময় মৌলবাদীদের অত্যাচারের মুখে পরিবারকে নিয়ে এ দেশে চলে আসতে হয়েছিল তাঁর নানা-কে। সেই স্মৃতির সঙ্গে চিন্ময় প্রভুর বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “চিন্ময় প্রভুর চোখের জল সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। ভাবছিলাম, শ্যামাপ্রসাদ কিংবা প্রণবানন্দের মাধ্যমে যদি ভারতভুক্তি না পেতাম, তবে আমাদের অবস্থাও চিন্ময় প্রভুর মতো হত।”
এ দিন ফের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং প্রণবানন্দজির ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, দেশভাগ বাঙালির জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। সেই ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরম্পরা ফিরিয়ে আনার বার্তাও দেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ তৈরির চেষ্টা হয়েছে।
চিন্ময় প্রভুকে ঘিরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন শুভেন্দুর এই বক্তব্য রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। নিজের পরিবারের দেশভাগের অভিজ্ঞতাকে সামনে এনে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ইতিহাসের যোগসূত্র টেনেছেন। ফলে চিন্ময় প্রভুর চোখের জল থেকে শুরু করে নিজের মায়ের দেশভাগের স্মৃতি শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে এল ব্যক্তিগত বেদনা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা, দু’টিই।




