কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বরঃ একের পর এক আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে আপাতত স্বস্তি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দক্ষিণ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর দলীয় কার্যালয় খালি করার নির্দেশ দিয়ে দমকল দফতর যে নোটিস দিয়েছিল, তার কার্যকারিতায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে এই মুহূর্তে ওই কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট তলগুলি খালি করার নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার চূড়ান্ত শুনানি।
ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বহুতলে অবস্থিত অভিষেকের কার্যালয় ঘিরে বেশ কিছু দিন ধরেই আইনি জটিলতা চলছে। এর আগে ভবনটি খালি করা সংক্রান্ত বিষয়ে সিটি সিভিল কোর্টে অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিষয়টি সামনে এসেছিল। তার মধ্যেই দমকলের নোটিস নতুন করে পরিস্থিতি জটিল করে।
দমকলের পরিদর্শনের পর অভিযোগ ওঠে, ভবনের সংশ্লিষ্ট অংশে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে নতুন করে ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ওই অংশ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই ভবন খালি করার নোটিস জারি হয় বলে জানা গিয়েছে।
দমকলের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান অভিষেক। শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, ভবনটি যদি সামগ্রিক ভাবে বিপজ্জনক হয়, তা হলে নির্দিষ্ট দু’টি তলকে কেন আলাদা করে বিপজ্জনক ঘোষণা করা হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, ভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের দায় মূলত মালিকপক্ষের।
অভিষেকের আইনজীবীর তরফে অভিযোগ করা হয়, লিজ বাতিলের পর ওই তলগুলি খালি করার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। অন্য দিকে রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল যুক্তি দেন, দমকলের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
ভবনের মালিকপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট লিজ ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। ফলে কার্যালয়টি ব্যবহার নিয়ে পৃথক আইনি প্রশ্ন রয়েছে বলেও সওয়াল করা হয়।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আপাতত দমকলের খালি করার নোটিসের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা যাবে না। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার বিস্তারিত শুনানির পরই কার্যালয়টির ভবিষ্যৎ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।
এর মধ্যেই ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও অব্যাহত। এর আগে ওই কার্যালয়ের বাইরে অবৈধ বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে পুরকর্মী ও অভিষেক-অনুগামীদের মধ্যে বচসা এবং পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরেও আইনি লড়াই চলছে।
অর্থাৎ, দলীয় কার্যালয়টি আপাতত খালি করতে হচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু আইনি জট এখনও কাটেনি। দমকলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আপত্তি, মালিকপক্ষের লিজ বাতিলের দাবি এবং অভিষেকের কার্যালয়ের ব্যবহার তিনটি প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজবে হাইকোর্ট। ১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানিতেই তাই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।





