শ্রীরামপুর, ১১ সেপ্টেম্বরঃ সভা হবে কোথায়? কত জন থাকবেন? মিছিলই বা কোন পথে? একের পর এক শর্তের পর এ বার মামলার পথেই নতুন জট। শ্রীরামপুরের মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত জনসভা ও মিছিলের অনুমতি ঘিরে আইনি টানাপোড়েন আরও বাড়ল। ডিভিশন বেঞ্চে দায়ের হওয়া মামলা ত্রুটিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হওয়ায় তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একক বেঞ্চের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য ফের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসেই যেতে বলা হয়েছে।
ফলে আপাতত আগের নির্দেশই বহাল থাকছে। আগামী সপ্তাহের আগে রাজ্য বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ নতুন করে একক বেঞ্চের দ্বারস্থ হতে পারে বলে আইনি মহলের একাংশের ধারণা। সভার ভবিষ্যৎ তাই এখনও অনিশ্চিত।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবারের কর্মসূচিকে ঘিরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জমায়েত এবং মিছিলের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। মামলার প্রথম শুনানিতে একক বেঞ্চ জিটি রোড ছুঁয়ে মিছিলের অনুমতি দেয়নি। পরিবর্তে দুপুর ১টা থেকে ৩টের মধ্যে মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের মাঠে সর্বোচ্চ দুই হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সভার অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে সেই অনুমতিও ছিল একাধিক শর্তসাপেক্ষ। ধর্মীয় উস্কানি বা প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখা যাবে না এবং শব্দবিধি কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে বলে নির্দেশ দেয় আদালত।
এই নির্দেশের পরই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য ও মাহেশ জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মূল যুক্তি, সভার জন্য যে মাঠের কথা বলা হয়েছে, সেটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ধর্মীয় সম্পত্তি। মন্দির কর্তৃপক্ষের সম্মতি না থাকলে সেখানে প্রশাসন কী ভাবে সভার ব্যবস্থা করতে পারে, সেই প্রশ্নই তোলা হয়।
কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে সেই মামলা খারিজ করে একক বেঞ্চের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার পথই দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি এখন ফের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসেই ফিরছে।
আইনি টানাপোড়েনের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে মামলার আবেদনকারী পিয়াল অধিকারীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাধা তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, জগন্নাথ মন্দিরকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি জটিল করা হচ্ছে এবং অর্থ আদায়ের চক্র চলছে। যদিও এই অভিযোগের কোনও স্বাধীন প্রমাণ সামনে আসেনি এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যও এখানে পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন কল্যাণ। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য কারও ব্যক্তিগত জমিদারি নয় এবং এই লড়াই আইনি পথেই চলবে।
ফলে মাহেশের সভাকে ঘিরে এখন একসঙ্গে তিনটি প্রশ্ন আদালতের শর্ত, জমির মালিকানার অধিকার এবং প্রশাসনের অনুমতির ক্ষমতা। শেষ পর্যন্ত সভা আদৌ হবে কি না, হলে কোথায় এবং কত জনকে নিয়ে তার উত্তর আপাতত বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পরবর্তী শুনানির দিকেই তাকিয়ে।





