জলপাইগুড়ি, ১১ সেপ্টেম্বরঃ সামনে ছুটছেন প্রধান শিক্ষক, পিছনে একদল পড়ুয়ার তাড়া। শিক্ষক দিবসের পর জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের সেই দৃশ্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের পথে স্কুলশিক্ষা দফতর। প্রধান শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত পড়ুয়াদের চিহ্নিত করে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। শনিবারের মধ্যে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের চিহ্নিত করে টিসি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শিক্ষক দিবসের বিশেষ খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, স্কুলের মিড-ডে মিলের ঘরে ওই উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। কয়েক জন পড়ুয়া সেখানে উঁকি দেওয়ায় তাঁদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বচসা বাধে। অভিযোগ ওঠে, পড়ুয়াদের মারধর করেন প্রধান শিক্ষক। এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পালটা একদল পড়ুয়া প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে মারধরের পাশাপাশি মাথায় আঘাত করা হয় বলেও জানা গিয়েছে। স্কুলের একাংশে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরই তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ যেমন সামনে এসেছে, তেমনই পড়ুয়াদের উপর প্রধান শিক্ষকের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
এর পরেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে তদন্তে নামে স্কুলশিক্ষা দফতর। দফতরের গঠিত পরিদর্শক দল জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে গিয়ে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে বলে দফতর সূত্রে খবর।
স্কুলে গিয়ে মন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, প্রধান শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত পড়ুয়ারা ওই স্কুলে আর পড়তে পারবে না। তবে তাঁদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য অন্য স্কুলে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এখানেই উঠছে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন। অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে স্কুলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাঁদের চিহ্নিতকরণ, ঘটনার ভূমিকা যাচাই এবং প্রযোজ্য বিধি মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, তদন্তে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটিও বিবেচনায় আসবে।
একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, তারও তদন্ত প্রয়োজন। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যেমন শিক্ষকদের, তেমনই পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ঘটনা এখন শুধু একটি স্কুলের অভ্যন্তরীণ গোলমাল নয়। শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক, শৃঙ্খলা, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ চারটি বিষয়ই এসে দাঁড়িয়েছে একই প্রশ্নের মুখে। অভিযুক্তদের টিসি দেওয়ার নির্দেশের পর এ বার নজর থাকবে, তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।





