শিলিগুড়ি, ১১ সেপ্টেম্বরঃ বাইরে থেকে ঝাঁ-চকচকে অফিস। ভিতরে সাজানো একাধিক ডেস্ক, কম্পিউটার। কিন্তু সেই অফিসের আড়ালেই চলছিল বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতারণার কারবার! মাটিগাড়ার ওয়েবেল আইটি পার্কে এমনই একটি ভুয়ো কল সেন্টারের হদিস মিলতেই অভিযানে নামে শিলিগুড়ি পুলিশ এবং এসটিএফ। রাতের অভিযানের পর শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া ১২ জনকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ওয়েবেল আইটি পার্কের একটি কল সেন্টারে হানা দেয় পুলিশের বিশাল বাহিনী। অভিযানে ছিলেন ডিসিপি-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন এসটিএফের সদস্যরাও। আচমকা অভিযানে তল্লাশি চালানো হয় কল সেন্টারের বিভিন্ন অংশে।
অভিযোগ, ওই অফিসের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি নাগরিকদের ফোন করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। নানা কৌশলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত বলে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে। অভিযানের সময় কল সেন্টার থেকে একাধিক সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের মধ্যে আট জন পুরুষ এবং চার জন মহিলা। পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁদের অধিকাংশের বয়স তুলনামূলক ভাবে কম।
তবে এই ১২ জনই কি চক্রের মূল মাথা? নাকি তাঁদের পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক? এখন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। কত দিন ধরে এই কারবার চলছিল, বিদেশে কত জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, প্রতারণার মাধ্যমে মোট কত টাকা লেনদেন হয়েছে সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, কল সেন্টারটি পরিচালনার নেপথ্যে কারা ছিলেন, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথি ও অন্যান্য সামগ্রী তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
মাটিগাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় একটি আইটি পার্কের ভিতরে এ ধরনের কারবারের অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আপাতত আদালতে পেশের পর শুরু হয়েছে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া। তদন্ত যত এগোবে, এই ভুয়ো কল সেন্টারের নেপথ্যে থাকা আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।





