কোচবিহার, ১১ সেপ্টেম্বরঃ কোচবিহার শহরের এক বাড়ি থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এক মহিলাকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একই ঘটনায় এক যুবকও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শুক্রবার সকালে শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে কিরণ গ্যাস সার্ভিস সেন্টারের উপরভাগে ঘটনাটি ঘটে। ঠিক কী কারণে ওই মহিলার গায়ে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন, না কি অন্য কোনও কারণ তা খতিয়ে দেখছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই বাড়িতে বেশ কিছু দিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল। পাশাপাশি, এক যুবকের ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলেও স্থানীয়দের একাংশের দাবি। ওই যুবক পেশায় মাছ বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে ওই যুবক বাড়িতে আসার পর কোনও একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরেই ওই মহিলার গায়ে আগুন লাগে বলে অভিযোগ। আগুন লাগার পর মহিলার চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকেও।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী ও অ্যাম্বুল্যান্স। অগ্নিদগ্ধ মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, ওই যুবকও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কী ভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি হাসপাতালে পৌঁছলেন, তা নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘ দিনের পারিবারিক অশান্তির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ থাকতে পারে। আবার ওই যুবকের নিয়মিত যাতায়াতের বিষয়টি সামনে আসায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে এই মুহূর্তে কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত করে দেখছে না পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে কী কী তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সেই সময়রেখাও তৈরির চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। মহিলার সঙ্গে যুবকের কী সম্পর্ক ছিল, ঘটনার সময় বাড়িতে আর কেউ ছিলেন কি না এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কী এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আপাতত অগ্নিদগ্ধ মহিলা ও হাসপাতালে ভর্তি যুবককে ঘিরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।





