শিলিগুড়ি, ১১ সেপ্টেম্বরঃ ছুটির দিনে ভিড় জমে শপিংমলে। কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া, সিনেমা দিনভর ব্যস্ততা। কিন্তু আচমকা আগুন লাগলে সেই ভিড়ই হয়ে উঠতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ। জরুরি মুহূর্তে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত? বিপদে আটকে পড়া মানুষকে দ্রুত বার করে আনার মতো পরিকাঠামোই বা কতটা কার্যকর? এই সব প্রশ্ন সামনে রেখেই মাটিগাড়ার সিটি সেন্টারে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা।
শিলিগুড়ির অন্যতম ব্যস্ত এই শপিংমলে আধিকারিকদের উপস্থিতিতে চলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শন। মলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা হয় বলে জানা গিয়েছে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থেকে শুরু করে জরুরি নির্গমন পথ বিপদের সময়ে কতটা দ্রুত এবং নিরাপদে সেগুলি ব্যবহার করা সম্ভব, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুধু আগুন নেভানোর সরঞ্জাম থাকলেই অবশ্য নিরাপত্তা সম্পূর্ণ হয় না। অগ্নিকাণ্ডের সময়ে মলের ভিতরে থাকা সাধারণ মানুষ কী ভাবে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় পৌঁছবেন, জরুরি পথগুলি বাধামুক্ত কি না, প্রয়োজনের সময়ে অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো কতটা সচল পরিদর্শনে গুরুত্ব পাচ্ছে সেই বিষয়গুলিও।
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনবহুল বাণিজ্যিক ভবনগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সেই আবহেই প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শপিংমলের মতো জায়গায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের আনাগোনা থাকায় সামান্য গাফিলতিও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
তাই এ দিনের পরিদর্শনকে শুধু নিয়মরক্ষার নজরদারি হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্ট মহল। জরুরি পরিস্থিতিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কাজের, সেটিই হয়ে উঠেছে মূল প্রশ্ন। আধিকারিকদের এই অভিযানের মধ্য দিয়ে মাটিগাড়ার সিটি সেন্টারে অগ্নিনিরাপত্তা পরিকাঠামো আরও শক্তপোক্ত করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ভিড়ের শহরে নিরাপত্তার প্রশ্নে এখন তাই নজর শুধু আগুন নেভানোর যন্ত্রে নয় বিপদের মুহূর্তে কত দ্রুত মানুষকে নিরাপদে বার করে আনা যায়, সেই ব্যবস্থার দিকেও।





