সাহেবগঞ্জ, ১১ সেপ্টেম্বরঃ কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ভিতরে ঢুকতে হচ্ছে পরিচয়পত্র দেখিয়ে। বাইরে সীমান্তরক্ষীদের কড়া নজরদারি। অথচ বেড়ার ওপারে রাত বাড়তেই চারপাশ ভরে উঠল ধূপ-ধুনোর গন্ধে, মন্ত্রোচ্চারণে। কৌশিকী অমাবস্যার রাতে সীমান্তের এই কড়া বাস্তবতার মধ্যেই নিয়ম-নিষ্ঠায় পুজিত হল সাহেবগঞ্জের জাগ্রত ছিন্নমস্তা মা।
বৃহস্পতিবার রাতভর বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চলে পুজো। সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকা হওয়ায় ভক্তদের প্রবেশেও ছিল একাধিক বিধিনিষেধ। ভারতীয় ভূখণ্ডের ভক্তরা সচিত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাঁটাতারের ভিতরে প্রবেশ করেন। মায়ের দর্শনের টানে কোচবিহার জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেমন ভক্তেরা এসেছেন, তেমনই নিম্ন অসম থেকেও বহু মানুষ সাহেবগঞ্জে পৌঁছন।
কৌশিকী অমাবস্যার সঙ্গে তন্ত্রসাধনার যোগ দীর্ঘদিনের। সেই বিশ্বাসকে ঘিরেই এ দিন রাতেও চলে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুজোমণ্ডপে জমতে থাকে ভক্তদের ভিড়। সীমান্তের নিস্তব্ধতার মধ্যে মন্ত্রোচ্চারণ আর পুজোর আয়োজন তৈরি করে অন্য রকম এক আবহ।
পুজোয় উপস্থিত ছিলেন দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায়। তবে ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল নিরাপত্তা। সীমান্তের স্পর্শকাতরতা মাথায় রেখে গোটা এলাকায় মোতায়েন ছিল বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশের বাহিনী। ভক্তদের যাতায়াত থেকে শুরু করে পুজোস্থলের নিরাপত্তা সব কিছুতেই ছিল কড়া নজরদারি।
সীমান্তের কাঁটাতার যেখানে দু’দেশের ভূখণ্ডকে আলাদা করে, সেখানে বছরের একটি বিশেষ রাতে সেই বেড়ার ভিতরেই তৈরি হয় বিশ্বাসের অন্য এক জগৎ। নিয়মের কড়াকড়ি, পরিচয়পত্রের পরীক্ষা, নিরাপত্তার বলয় সবকিছুর মধ্যেও ভক্তদের বিশ্বাসে ছিন্নমস্তা মা যেন হয়ে ওঠেন সীমান্তের ওপারের এক আলাদা টান। কৌশিকী অমাবস্যার রাত তাই সাহেবগঞ্জে শুধু পুজোর রাত নয়, বিশ্বাস আর সীমান্ত-বাস্তবতার পাশাপাশি চলারও এক অনন্য ছবি।





