দিনহাটা, ১১ সেপ্টেম্বরঃ সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। কিন্তু কয়েকটি ফোনকলের উত্তর না মেলায় বদলে গেল গোটা ছবিটা। বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, মেঝেতে পড়ে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী। দু’জনেরই দেহ রক্তাক্ত। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ল চাঞ্চল্য। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছনোর পর শুরু হল তদন্ত। তবে কী ভাবে মৃত্যু হল দম্পতির? পারিবারিক অশান্তির জের, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? আপাতত সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে দিনহাটা থানার পুলিশ।
শুক্রবার সকালে দিনহাটা ভিলেজ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হিমঘর সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। মৃতদের নাম সুকুমার বর্মন এবং তাঁর স্ত্রী চম্পা রায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকুমার পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল থেকেই মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন তাঁদের মেয়ে টুম্পা রায়। একাধিক বার ফোন করা হলেও ওপার থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি তাঁর বড় ছেলেকে বাড়িতে পাঠান। বাড়িতে পৌঁছে সে যে দৃশ্য দেখে, তাতেই কার্যত শিউরে ওঠে পরিবার। মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন দু’জন।
খবর যায় দিনহাটা থানায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তদন্তে যান দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক প্রশান্ত দেবনাথ, আইসি বুধাদিত্য রায়-সহ পুলিশের আধিকারিকেরা। বাড়ির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন দিক থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই পারিবারিক বিবাদ হত। সেই বিবাদের সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। যদিও পুলিশ এখনও কোনও সম্ভাবনাকেই চূড়ান্ত বলে মানছে না। মৃত্যুর কারণ নিয়েও নিশ্চিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধারের কারণে স্বাভাবিক ভাবেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এটি কি কোনও অপরাধের ঘটনা, নাকি অন্য কোনও পরিস্থিতিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে তার উত্তর মিলবে তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। ইতিমধ্যেই দু’টি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়েছে নানা জল্পনা। তবে জল্পনার বাইরে গিয়ে আপাতত পুলিশের নজর ঘটনাস্থল, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টই হয়তো খুলে দিতে পারে দিনহাটার এই রহস্যমৃত্যুর আসল দরজা।





