দিনহাটা, ১০ সেপ্টেম্বর: আইনজীবী পরিচয়। তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর আশ্বাস। এসআইআর-এর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়েছে ? চিন্তা নেই আইনি পথে সেই নাম ফের ভোটার তালিকায় তুলে দেওয়ার ‘দায়িত্ব’ নেওয়ার কথা বলে টাকা সংগ্রহের অভিযোগ। সেই অভিযোগেই সিতাই থেকে গ্রেফতার হলেন এক মহিলা। ধৃতের নাম সাবিনা বেগম। এদিন ছাট সিঙ্গিমারি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিতাই থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাবিনার বাড়ি হাওড়ায়। অভিযোগ, নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। এসআইআর সংক্রান্ত নানা সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার পাশাপাশি ভোটার তালিকায় বাদ পড়া নাম ফের তোলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই সূত্রেই কয়েক জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ পৌঁছয়।
পুলিশের দাবি, গত প্রায় এক মাস ধরে এনামুল হক নামে এক যুবকের সঙ্গে বিবাহসূত্রে সিতাইয়ের ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন সাবিনা। সেখান থেকেই স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। তবে তিনি আদৌ আইনজীবী কি না, তাঁর শিক্ষাগত বা পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে এই দাবির কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ওই ঘটনার পিছনে শুধুই ব্যক্তিগত ভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, নাকি এর সঙ্গে আরও বড় কোনও চক্র জড়িত তদন্তের সেই দিকটিও এখন পুলিশের নজরে। কত জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল, মোট কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য বা নথি দেখিয়ে কী ভাবে স্থানীয়দের বিশ্বাস অর্জন করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এই কাজে আর কেউ সহযোগিতা করেছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ধৃত মহিলাকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের আরও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।
ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।





