কোচবিহার, ১০ সেপ্টেম্বরঃ একই বাড়িতে বৌদি ও দেওরের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বাড়ির ভিতর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার শিক্ষিকা বৌদি। আর নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার তাঁর দেওর। বৃহস্পতিবার কোচবিহার শহরের ভবানীগঞ্জ বাজারের শনিমন্দির সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দু’টি মৃত্যুর মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, নাকি দু’টি ঘটনা আলাদা তা খতিয়ে দেখছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিক্ষিকার নাম সেরাডিপা তালুকদার। তিনি পেশায় শিক্ষিকা। তাঁর দেওর সঞ্জীব কুমার দে পেশায় টোটোচালক। সঞ্জীবের স্ত্রী এবং একটি মেয়েও রয়েছে। একই বাড়িতে দুই আত্মীয়ের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের বিবাদ না কি অন্য কোন বিষয় রয়েছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের প্রাথমিক দাবি, বাড়ির ভিতরে সেরাডিপাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। অন্য দিকে, সঞ্জীবকে তাঁর নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কী ভাবে সেরাডিপা আহত হলেন, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং সঞ্জীবের মৃত্যুর সঙ্গে সেই ঘটনার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না এখন তদন্তের অন্যতম বিষয় সেটিই।
ঘটনার সময় সেরাডিপার ছেলে বাড়িতে ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। পরিস্থিতি বিপজ্জনক বুঝতে পেরে সে কোনও ভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোতোয়ালি থানায় পৌঁছয় এবং পুলিশকে খবর দেয় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ আধিকারিকেরা। বাড়িটি ঘিরে শুরু হয় প্রাথমিক তদন্ত। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই পারিবারিক বিবাদের তত্ত্ব সামনে এসেছে।
তবে সেটি নিছক স্থানীয় জল্পনা, নাকি ঘটনার সঙ্গে তার কোনও বাস্তব যোগ রয়েছে এখনও তা স্পষ্ট নয়। পরিবারের তরফে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয় নি। এটি পারিবারিক বিবাদের পরিণতি, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।





