দিনহাটা, ১২ সেপ্টেম্বরঃ দিনহাটার হিমঘর সংলগ্ন এলাকায় দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মহাদেব রায়কে সঙ্গে নিয়ে শনিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধৃতের দেখানো জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র। শুক্রবার ওই এলাকায় বাড়ির ভিতর থেকে সুকুমার বর্মন ও তাঁর স্ত্রী চম্পা রায়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে ডিমভাত নিয়ে বচসার জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জেরায় দাবি করেছেন মহাদেব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খেতে বসে তিনি দেখতে পান ডিমভাত নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তা খেতে অস্বীকার করাকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হয়। এর পরেই সুকুমার ও চম্পার উপর হামলা চালানোর কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
খুনের পর তাঁর অনুশোচনা হয়নি বলেও মহাদেব দাবি করেছেন বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর বয়ানের প্রতিটি দাবি যাচাই করে দেখছে পুলিশ।
ধৃতের বক্তব্যে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। মহাদেবের দাবি, মৃত সুকুমার বর্মন তাঁর বাবা নন, সম্পর্কে কাকু। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতেন। ফলে নিহতদের সঙ্গে ধৃতের পারিবারিক সম্পর্ক কী ছিল এবং ঘটনার প্রকৃত কারণই বা কী, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
শুক্রবার সকালে দিনহাটা ভিলেজ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হিমঘর সংলগ্ন এলাকায় দু’জনের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছন দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক প্রশান্ত দেবনাথ, আইসি বুধাদিত্য রায়-সহ পুলিশ আধিকারিকেরা।
মৃত দম্পতির মেয়ে টুম্পা রায়ের দাবি, সকালে একাধিক বার ফোন করেও মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। পরে বড় ছেলেকে বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে সে দু’জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বলে জানিয়েছেন টুম্পা।
ঘটনার তদন্তে মহাদেবের নাম উঠে আসার পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। সেই সময় তাঁর দেখানো জায়গা থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
তবে ডিমভাত নিয়ে বচসাই ঘটনার একমাত্র কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ধৃতের বয়ান, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ফরেন্সিক পরীক্ষা-সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ বা পারিবারিক বিবাদ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।






