শীতলকুচি, ১২ সেপ্টেম্বরঃ রাতের অন্ধকারে পোস্টার। আর তাতেই ফের প্রকাশ্যে বিজেপির অন্দরের কোন্দলের জল্পনা। শীতলকুচির লালবাজারে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের গেট থেকে হাটের একাধিক দোকান সর্বত্র বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে শুক্রবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। পোস্টারে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘৪ তারিখের পর’ বিজেপির অঞ্চল সমিতিতে কারা জায়গা পেলেন ? কে বা কারা এই পোস্টার লাগাল, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাকে ঘিরে দলের অন্দরে ‘আদি-নব্য’ দ্বন্দ্বের জল্পনা নতুন করে জোরালো হয়েছে।
শুক্রবার রাতে লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের গেটে এবং লালবাজার হাটের বেশ কয়েকটি দোকানে ওই পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারের বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় আলোচনা। সংগঠনের সাম্প্রতিক রদবদলের সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে কি না, উঠছে সেই প্রশ্নও।
লালবাজার অঞ্চল বিজেপির কনভেনার যামিনী বর্মনের অবশ্য দাবি, অঞ্চল সমিতিতে কারা জায়গা পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত স্থানীয় নেতৃত্বের নয়। দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই তা ঠিক করেছে। তাঁর কথায়, ‘‘এটা দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে আমাদের হাতে কিছু নেই। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, সেটাও আমাদের জানা নেই। দলের ঊর্ধ্বে আমরা নই।’’
ফলে পোস্টারের নেপথ্যে কারা, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। প্রকাশ্যে কেউ দায়ও স্বীকার করেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে অস্বস্তির জায়গাটা স্পষ্ট। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ইতিমধ্যেই কোচবিহার জেলার বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় মণ্ডল সভাপতি-সহ আটজন পদাধিকারীকে বহিষ্কার করেছে বিজেপি। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে তার পরেও কাটেনি জল্পনা।
তারই মধ্যে লালবাজারে রাতের পোস্টার। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সংগঠনের পদ বণ্টন ঘিরেই কি ক্ষোভ? ‘৪ তারিখের পর’ লেখা পোস্টারের বার্তা কি দলের পুরনো-নতুন কর্মীদের টানাপড়েনের ইঙ্গিত? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? উত্তর মেলেনি এখনও। তবে রাতের অন্ধকারে সাঁটা কয়েকটি পোস্টারেই ফের প্রকাশ্যে এসেছে বিজেপির অন্দরের অস্বস্তি।






