নন্দীগ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বর: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই বাংলায় ফের ভোটের দামামা। সোমবার নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর ভোট, ফল প্রকাশ ৯ অক্টোবর। ফলে উৎসবের আবহের মধ্যেই ফের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে দুই কেন্দ্র। তবে নজর যে নন্দীগ্রামে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ এই কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের একাধিক সমীকরণ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। ভবানীপুরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর নিয়ম মেনে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন তিনি। সেই আসনই এখন উপনির্বাচনের মুখে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন, শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া আসনে বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে?
দলীয় সূত্রে একাধিক নাম নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামে কোথাও কোথাও অঞ্জন ভারতীর সমর্থনে দেওয়াল লিখনও দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি মেঘনাদ পালের নামও ঘুরছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে। যদিও প্রার্থী নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি বিজেপি নেতৃত্ব। দলের বক্তব্য, বিজেপি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দল। দলীয় নেতৃত্ব যাঁকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে, কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকেই মেনে নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামবেন।
অন্য দিকে, তৃণমূলের শিবিরে এখনও প্রার্থীর নাম নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও ঘোষণা নেই। তবে দলের অন্দরের খবর, প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরিকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ফলে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নন্দীগ্রামে প্রশ্নের তালিকাও লম্বা হচ্ছে। বিজেপির প্রার্থী কে, তৃণমূলের মুখ কে তার থেকেও বড় হয়ে উঠছে, শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া আসনটি কি বিজেপি ধরে রাখতে পারবে? নাকি পাল্টা চমক দেবে তৃণমূল?
পুজোর আগেই নন্দীগ্রামে তাই ফের ভোটের উত্তাপ। উৎসবের মরসুম শুরুর আগে রাজনৈতিক বাংলায় শুরু হয়ে গেল নতুন এক লড়াইয়ের কাউন্টডাউন।






