পাণ্ডবেশ্বর, ১৮ এপ্রিলঃ ভোটের আবহে পাণ্ডবেশ্বরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার কথা বলায় এক মহিলাকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনায় মহিলার স্বামী ও নাবালিকা কন্যাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ শাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ, শুক্রবার সকালে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারির সমর্থনে প্রচারে বেরিয়েছিলেন একদল বিজেপি কর্মী। সেই দলে ছিলেন স্থানীয় নেতা প্রহ্লাদ শাহ। তাঁরা পাণ্ডবেশ্বরের বাঙালপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্রাবণী চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়ে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান।
কিন্তু শ্রাবণী চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকেই ভোট দেবেন। এই কথা শুনেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত নেতা বলে অভিযোগ। এরপরই শ্রাবণী ও তাঁর নাবালিকা মেয়েকে চড় মারা হয় বলে অভিযোগ। মেয়েকে মারধরের প্রতিবাদ করতে গেলে শ্রাবণীর স্বামীকেও বেধড়ক মারধর করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার পরেই স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শ্রাবণী চক্রবর্তী। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শুক্রবার রাতেই প্রহ্লাদ শাহকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই বিজেপি এখন সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালাচ্ছে।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের আগে বিজেপিকে বদনাম করতেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছে আক্রান্ত পরিবার। নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।





