কলকাতা, ১৮ এপ্রিলঃ প্রথম দফার ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোটের দিন কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। কোনও এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে, নইলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন কোথাও অস্ত্র, বোমা বা গুলি উদ্ধার হলে সংশ্লিষ্ট থানার কর্তাদের তৎপর হতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরাসরি সাসপেন্ড করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই বার্তা দিয়ে কার্যত পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করে দিল কমিশন।
ভার্চুয়াল বৈঠকে ১৬ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ অবজারভাররাও। বৈঠকে গত নির্বাচনের সময় যাঁদের বিরুদ্ধে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের গ্রেপ্তারি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক। কেন এখনও পর্যন্ত অনেক অভিযুক্তকে ধরা যায়নি, সেই বিষয়ে জেলা পুলিশকে জবাবদিহি করতে বলা হয়।
এছাড়াও দাগী অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই হিংসার মামলা রয়েছে, তারা যাতে ভোটের দিন নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। হাতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, প্রায় ৪০ হাজারের বেশি রাজ্য পুলিশ মোতায়েন থাকবে বিভিন্ন কেন্দ্রে। পাশাপাশি প্রতিটি বুথে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে, যাতে ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
কমিশনের এই কড়া নির্দেশের পর প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের এই কঠোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এখন দেখার, ভোটের দিন মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়।





