কলকাতা, ১৮ এপ্রিলঃ ভোটের আবহে ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল রাজ্যে। শুক্রবার দিনভর রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় আয়কর দপ্তর। প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে তাঁর বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় কোনও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির পদক্ষেপ আইনসঙ্গত নয়। বিষয়টি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে শাসকদলের প্রার্থীদের হেনস্তা করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তাঁদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে।
তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীই তাঁদের সম্পত্তির হলফনামা জমা দেন। দেবাশিস কুমারও সেই নিয়ম মেনেই মনোনয়ন পেশ করেছিলেন। তাহলে ভোটের ঠিক আগে এমন তড়িঘড়ি তল্লাশি কেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে দল। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ আদর্শ আচরণবিধির পরিপন্থী এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “ভোটের আগে তৃণমূল নেতাদের হেনস্তা করাই লক্ষ্য। আগের নির্বাচনেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এবারও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে একই কৌশল নেওয়া হচ্ছে।”
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। ভোটের আগে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।





