খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৬ জানুয়ারিঃ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। গঙ্গাসাগর মেলার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আইনি লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন, তারই বাস্তব রূপ দেখা গেল মঙ্গলবার। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। সেই সঙ্গে মামলার জরুরি শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রায় ১০১ পাতার একটি বিস্তারিত পিটিশন শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই আবেদনে ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়সীমা অবিলম্বে বাড়ানো হোক। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক গঠনগত ও প্রশাসনিক ত্রুটি রয়েছে, যার ফলে সাধারণ ভোটাররা চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন।
পিটিশনে মূলত এসআইআর-এর সময়সীমা, যাচাই পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ডেরেকের দাবি, এই প্রক্রিয়া আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া জরুরি। তিনি ভোটার তালিকার চূড়ান্ত প্রকাশ পিছিয়ে দেওয়া এবং সময়সীমা শিথিল করার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের তরফে হোয়াটসঅ্যাপ বা মৌখিক নির্দেশ জারির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের নির্দেশ আইনি ভিত্তিহীন এবং তা বাতিল হওয়া উচিত।
এছাড়াও তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ ক্যাটেগরি বাতিল, সফটওয়্যার-নির্ভর কেন্দ্রীভূতভাবে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ এবং ভোটার যাচাইয়ে বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পরিযায়ী ভোটারদের জন্য ভার্চুয়াল বা প্রতিনিধির মাধ্যমে শুনানি, প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের বাড়িতে বসে যাচাইয়ের ব্যবস্থার কথাও আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ডেরেক ও’ব্রায়েনের আরও অভিযোগ, প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারকে কোনও শুনানি ছাড়াই খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ডিজিটালাইজেশনের সময় ব্যাপক ও পদ্ধতিগত ত্রুটির কথাও মামলায় তুলে ধরা হয়েছে। এই মামলাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।





