হাওড়া, ১৮ এপ্রিলঃ ভোটগণনার আগে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ার উলুবেড়িয়ার জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছে করে ‘স্লো পোলিং’ এবং ‘স্লো কাউন্টিং’ করার পরিকল্পনা করছে। তাঁর আশঙ্কা, ভোটগণনার শুরুতেই গুজব ছড়ানো হতে পারে যে তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে রয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রথমেই রটিয়ে দেওয়া হবে তৃণমূল হারছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সূর্যাস্ত হবে তৃণমূলের জয়ে।” দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, কোনও গুজবে কান না দিতে এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফলের উপর নজর রাখতে।
এদিন ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইভিএমে কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভোটের দিন ইচ্ছাকৃতভাবে মেশিন খারাপ করে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিটি মেশিন ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে এবং ভিভিপ্যাট ছাড়া কোনওভাবেই ভোটগ্রহণ মেনে নেওয়া যাবে না।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র তৃণমূল নেতাদের বাড়িতেই তল্লাশি চালানো হচ্ছে, অন্য দলের ক্ষেত্রে সেই নজির দেখা যায় না। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যত দোষ তৃণমূলের এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে। বাংলার মানুষ এর জবাব দেবে।” মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সংসদে এই বিল নিয়ে কেন্দ্রের পরাজয় বিজেপির দুর্বলতাকেই প্রকাশ করেছে।
এদিনের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে দিল্লি থেকে সরানোর ডাক দেন। তাঁর কথায়, “বাংলা থেকেই বিজেপিকে উৎখাতের সূচনা হবে।”
ভোটের আগে এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ভোটগণনার দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।





