কলকাতা, ৩ জুন: রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকতেই বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে সমস্ত কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। দলীয় এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, তৃণমূল যুব কংগ্রেস, মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস, ট্রেড ইউনিয়ন, সংখ্যালঘু সেল-সহ সমস্ত সাংগঠনিক কাঠামো আপাতত বিলুপ্ত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হল, যখন দলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে। বুধবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়কের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জমা পড়েছে। সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি উপদলনেতা হিসেবে সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহা এবং মুখ্য সচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিদ্রোহী শিবিরে থাকা একাধিক বিধায়ক দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে ছিলেন। বিশেষ করে আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি পদে থাকা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নতুন নেতৃত্বের মুখ হিসেবে সামনে আসায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। সম্প্রতি কুণাল ঘোষও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন,ঋতব্রত কেন এখনও সংগঠনের পদ থেকে ইস্তফা দেননি।
দলের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর কাজের মূল্যায়ন করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নতুন কমিটি ও নেতৃত্ব গঠন করা হবে। তবে নতুন কমিটি কবে ঘোষণা করা হবে বা নেতৃত্বে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে এবং আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





