খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে এই অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নিজের দায়ের করা মামলার শুনানিতে ফের একবার বাংলার মানুষের হয়ে সওয়াল করে মাইক্রো অবজার্ভার প্রত্যাহারের আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি চলছিল। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান। তবে মাঝপথে ‘পার্টি ইন পার্সন’ হিসেবে খোদ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বক্তব্য রাখতে দাঁড়ান। এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ কীভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তা আদালতের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নিয়ম ভেঙেই শুধুমাত্র বাংলার জন্য মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাইক্রো অবজার্ভার করে পাঠানো হচ্ছে, যারা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইলেকশন কমিশন এখন হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন হয়ে গিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”
এই অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, এসডিএম পদমর্যাদার পর্যাপ্ত অফিসার পাওয়া যায়নি বলেই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছে এবং তা আইন মেনেই করা হয়েছে। পালটা মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যের জনসংখ্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট এসডিএম দেওয়া হয়েছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের পর্যবেক্ষণ, “রাজ্য সরকার সহযোগিতা করলে মাইক্রো অবজার্ভারের প্রয়োজন নেই। কোনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায়, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য।” পাশাপাশি আদালত নির্বাচন কমিশনকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শও দেয়।





