নিজস্ব সংবাদদাতা, শীতলখুচি: দাবি নতুন নয়, কিন্তু এ বার আন্দোলনের পথ বদলাচ্ছে। রাজনৈতিক দলের ব্যানার নয়, সাধারণ মানুষকে সামনে রেখেই উত্তরবঙ্গের বহু প্রতীক্ষিত মাথাভাঙ্গা–শীতলখুচি–সিতাই–নিউ গীতালদহ রেলপথ নির্মাণের দাবিতে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল রেলপথ নির্মাণ দাবি সমিতি। রবিবার শীতলখুচির অ্যাপোলো ফার্মেসির উপরতলায় আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন আন্দোলনকারীরা।
সমিতির সদস্যদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই শীতলখুচি, সিতাই এবং সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি এই রেলপথ। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে ফরওয়ার্ড ব্লক, এই প্রকল্পের দাবিতে আন্দোলন করলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। তাই এ বার রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং সর্বজনীন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ তৈরি করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত রেলপথ শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়, উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি। তাঁদের দাবি, মাথাভাঙ্গা, শীতলখুচি, সিতাই এবং নিউ গীতালদহের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ গড়ে উঠলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা দূর হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি বিপণন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।
সভা থেকে কেন্দ্র এবং রেল মন্ত্রকের কাছে অবিলম্বে প্রকল্পের সমীক্ষা সম্পূর্ণ করে নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনও অগ্রগতি হয়নি। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সমিতির ব্যানারেও উঠে এসেছে আন্দোলনের মূল সুর ‘রেলপথ নির্মাণ এখনই চাই’ এবং ‘রেলপথ চাই, উন্নয়নের অধিকার চাই’। সভা থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘‘এই দাবি কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়। এটি গোটা এলাকার মানুষের দাবি। তাই সকলকে একত্রিত হয়ে এই আন্দোলনে শামিল হতে হবে।’’
এ দিনের সভায় আন্দোলনকারীরা শীতলখুচির বিধায়ক সাবিত্রী বর্মনের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, বিধায়ক প্রকাশ্যে এই রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। সমিতির পক্ষ থেকে সেই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দিনেও এই জনস্বার্থের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে তাঁর কাছে।
সভা শেষে সমিতির সদস্যরা জানান, আন্দোলনকে আর শুধু বৈঠক বা স্মারকলিপির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। আগামী দিনে গণস্বাক্ষর অভিযান, জনসংযোগ কর্মসূচি, গ্রামভিত্তিক প্রচার এবং বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে রেলপথ নির্মাণের দাবি আরও জোরালো করা হবে। তাঁদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের এই বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। সীমান্তবর্তী মানুষের উন্নয়নের স্বার্থেই রেলপথ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।





