মনিরুল হক, কোচবিহারঃ পৃথক রাজ্যের দাবি ঘিরে কোচবিহারে ফের সরব কামতাপুরিদের একাংশ। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনের পাশাপাশি জেলা শাসকের দফতরেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম কোচবিহার সফরে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে সেই দাবির প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর বার্তা, আন্দোলন বা দাবি জানানোর অধিকার গণতন্ত্রে রয়েছে। তবে সেই দাবি নিয়ে আলোচনার পথেই সমাধানের বার্তা দিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘গণতান্ত্রিক দেশ, যে কেউ আন্দোলন বা দাবি করতে পারে।’’ এর পরেই কোচবিহার থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোচবিহার থেকে রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন একাধিক জনপ্রতিনিধি। তাঁদের সঙ্গে আগে কথা বলার বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী।
কোচবিহারের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, কোচবিহার থেকে বিধানসভার স্পিকার করা হয়েছে। মালতি রাভা রায়কে শিশু ও নারী কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী এবং নিশীথ প্রামাণিককে ক্যাবিনেট মন্ত্রী করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আন্দোলনকারীদের তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে আলোচনার দরজা নিজের জন্যও খোলা বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, কলকাতার সচিবালয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে স্বাগত। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ সফরের সময় উত্তরকন্যাতেও কথা বলার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। এমনকি প্রয়োজন হলে কোচবিহারে এসে সরাসরি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ভোটের প্রসঙ্গও। কোচবিহারের মানুষ তাঁদের দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছেন বলেই সরকারে আসা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই কারণে জেলার মানুষের দাবি ও অধিকার নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাসও দেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ওদের যা দাবি, যা অধিকার, সব আলোচনা করে আমরা মিটিয়ে নেব।’’
ফলে পৃথক রাজ্যের দাবিকে ঘিরে আন্দোলনের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে আপাতত সংঘাতের বদলে আলোচনার সুরই সামনে এল। কলকাতা থেকে উত্তরকন্যা, প্রয়োজনে কোচবিহার আলোচনার জন্য একাধিক জায়গার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু সমাধানের পথ খুঁজতে হবে কথোপকথনের টেবিলেই।





