কোচবিহার, ২২ সেপ্টেম্বরঃ এক দিকে প্রকৃতির টান, অন্য দিকে মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি। কোচবিহারের পর্যটনের ভবিষ্যৎ দেখছেন দুই পথেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন শহরকে শুধু ইতিহাসের পাতায় নয়, পর্যটনের মানচিত্রেও নতুন করে তুলে ধরতে হবে। আর সেই পথের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে ধর্মীয় পর্যটন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এখানে দুই ধরনের ট্যুরিস্ট আসবে। একটা প্রকৃতিকে দেখার জন্য ট্যুরিস্ট আসবে, আর একটা আসবে আমাদের রিলিজিয়াস ট্যুরিস্ট ধর্মীয় স্থান দেখার জন্য।’’ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কোচবিহার সফরে এসে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরই পর্যটন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান তিনি।
কোচবিহারের ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে পাশের রাজ্য অসমের উদাহরণও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কয়েকদিন আগেই আসামের মুখ্যমন্ত্রী মধুপুর ঘুরে গেছেন। আজকে আমি মদনমোহন জিউ ঘুরে গেলাম। এখানে রিলিজিয়াস ট্যুরিজম হবে।’
তবে শুধু মন্দির থাকলেই পর্যটক আসবেন না পরিকাঠামোও চাই। সেই বাস্তবতার কথাই উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। রেল যোগাযোগ, বিমানবন্দর এবং বাস পরিষেবা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনের কথা বলেন তিনি। পর্যটকেরা এসে যাতে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন, তার জন্য উন্নত মানের অতিথিশালা ও আবাসন তৈরির কথাও জানান।
প্রকৃতি এবং ধর্ম এই দুইয়ের সমন্বয়েই কোচবিহারের পর্যটনের নতুন পরিচয় গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও আবাসন পরিকাঠামো তৈরি করা গেলে কোচবিহারও তরাই-ডুয়ার্স কিংবা টাইগার হিলের মতো পর্যটন-গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
মদনমোহনের দরবারে দাঁড়িয়ে তাই শুধু পুজো নয়, যেন আগামী দিনের পর্যটন-ছবিটিও আঁকলেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষে জানিয়ে গেলেন, এই সফরেই ইতি নয় রাসপূর্ণিমায় ফের কোচবিহারে দেখা হবে তাঁর।





