আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

‘ইস্তফায় মেয়েকে ফিরে পাব না’, নিট প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি আত্মঘাতী পড়ুয়ার মায়ের

Published on: July 26, 2026
---Advertisement---

খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৬ জুলাইঃ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেও ক্ষত শুকোয়নি। বরং একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে আরও সরব হলেন মা। নিট প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরেও সন্তুষ্ট নন মধ্যপ্রদেশের নীলম চতুর্বেদী। তাঁর দাবি, পদত্যাগ নয়, প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে যাঁরা জড়িত, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। প্রয়োজনে ফাঁসির সাজা দেওয়া হোক অভিযুক্তদের।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিট পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর গত ২০ মে আত্মঘাতী হয়েছিলেন নীলমের ১৮ বছরের কন্যা আকাঙ্খা চতুর্বেদী। মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘মন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছেন, কিন্তু তাতে আমাদের কী লাভ? আমার মেয়ে তো আর ফিরে আসবে না।’’

মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা চতুর্বেদী পরিবার মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে নাগপুরে চলে গিয়েছিল। সেখানকার একটি কোচিং প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল আকাঙ্খা। পরিবারের দাবি, ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা দিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল সে। তার বিশ্বাস ছিল, ৬৫০-রও বেশি নম্বর পাবে।

কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত যেন মুহূর্তে ভেঙে দেয় সেই স্বপ্ন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল আকাঙ্খা। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল, কারও সঙ্গে কথাও বলত না। অবশেষে ২০ মে নিজের জীবন শেষ করে দেয় সে।

পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটে আকাঙ্খা লিখেছিল, সে আর একবার নিট পরীক্ষার মানসিক চাপ নিতে পারবে না। প্রথমবার ভালো ফলের আশা থাকলেও দ্বিতীয়বার সেই নিশ্চয়তা নেই। তাই মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে জীবনের ইতি টেনেছিল সে।

মেয়ের মৃত্যুর ধাক্কা সামলাতে পারেননি আকাঙ্খার বাবাও। পরিবার সূত্রের দাবি, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। নীলমের কথায়, ‘‘আমার মেয়ে থাকলে সব সামলে নিত। এখন আমাদের দেখার কেউ নেই। ইস্তফা দিয়ে কেউ দায় এড়াতে পারে না। যারা এই প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।’’

তাঁর দাবি, শুধু প্রশাসনিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করলেই ন্যায়বিচার সম্পূর্ণ হয় না। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূলচক্রকে চিহ্নিত করে এমন শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরীক্ষা বা কোনও ছাত্রছাত্রীর জীবন এভাবে বিপন্ন না হয়।

উল্লেখ্য, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এ কঠোর শাস্তির বিধান করেছে। সংশোধিত আইনে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় দুর্নীতির মতো অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের কোনও বিধান নেই। সেই কারণেই নীলম চতুর্বেদীর দাবি, আইন আরও কঠোর করে প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের এমন শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও আকাঙ্খার স্বপ্ন এভাবে ভেঙে না যায়।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment