কলকাতা, ৪ অক্টোবরঃ বিজেপি-বিরোধিতার প্রশ্নে সিপিএমের সঙ্গে সমন্বয়ের বার্তা আগেই দিয়েছিলেন। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে কথাও হয়েছিল তাঁর। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেই এ বার সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে আরও এক অভিযোগ। আক্রান্ত বামপন্থী আইনজীবী শামিম আহমেদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় প্রধান। একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হলেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। শালবনির কাছে কলকাতা হাই কোর্টের বার কাউন্সিলের সদস্য শামিম আহমেদ-সহ কয়েক জন বামপন্থী আইনজীবীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় চাপানউতোর। আক্রান্তদের রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে রেখে ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রবিবার এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে কার্যত ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে। আক্রান্ত আইনজীবীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে প্রশাসনকে ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।
মমতার এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে বিরোধীদের একজোট হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা একাধিক বার বলেছেন তিনি। এমনকি সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর কথাবার্তা হয়েছে। ফলে বামপন্থী আইনজীবীদের উপর হামলার ঘটনায় প্রকাশ্যে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেরই ইঙ্গিত কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে মমতার অভিযোগ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে পারে বিজেপিও। হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। ফলে রাজনৈতিক অভিযোগের বাইরে প্রকৃত ঘটনা কী, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মমতার বার্তা, রাজনীতি নয় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। বিজেপি-বিরোধিতার বৃহত্তর মঞ্চে সিপিএমের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর বার্তার মধ্যেই এবার বাম আইনজীবীর পাশে মমতার দাঁড়ানোয় রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে।





