বীরভূম, ৪ অক্টোবরঃ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে জাল ডিসিআর-কাণ্ডের তদন্তে এ বার পুলিশের জালে ভূমি দফতরের এক প্রাক্তন আধিকারিক। গ্রেফতার করা হয়েছে সব্যসাচী দত্তকে। মহম্মদবাজারে বিএলআরও হিসাবে কর্মরত থাকার সময়ের ভূমিকা নিয়েই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বর্তমানে তিনি ঝাড়গ্রামের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর অফ ল্যান্ড পদে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিউড়ি থানায় ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘ জেরায় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্তকারীদের দাবি, বেশ কিছু প্রশ্নের সরাসরি উত্তরও এড়িয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এর পরেই শনিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার সিউড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক সব্যসাচীকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এই মামলায় এর আগে ভূমি দফতরের দুই কর্মী বিশ্বজিৎ সাহা ও প্রবীর কুমার দাসকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁদের জেরা করেই সব্যসাচীর নাম তদন্তকারীদের সামনে আসে বলে দাবি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, টুলু মণ্ডলের কর্মীদের জাল ডিসিআর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করে দেওয়ার কাজে ওই দুই কর্মী যুক্ত ছিলেন। আর সেই কাজে সব্যসাচীর ‘সবুজ সংকেত’ ছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, টুলু মণ্ডলের বিস্তৃত পাথর ব্যবসার সঙ্গে ভূমি দফতরের একাংশের যোগসূত্রের বিষয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে। সেই সূত্রেই সব্যসাচীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে পুলিশের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন সব্যসাচীর আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মহম্মদবাজারে বিএলআরও থাকার সময় নকল ডিসিআরের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ করেছিলেন সব্যসাচী নিজেই। আইনজীবীদের প্রশ্ন, যে আধিকারিক এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারতেন, তাঁকেই অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করা হল কেন?
ফলে টুলু মণ্ডল মামলায় এই গ্রেফতারি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এত দিন একাধিক সরকারি কর্মীর গ্রেফতারি ঘিরে তদন্তের পরিধি বাড়ছিল। এবার এক আধিকারিক গ্রেফতার হওয়ায় তদন্ত আরও কোন দিকে গড়ায়, সেটাই নজরে। বিশেষ করে এই মামলায় আরও কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সরকারি আধিকারিকের নাম সামনে আসে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা।





