নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের পর এ বার শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও উচ্ছেদের নোটিশ ঘিরে দানা বাঁধছে উদ্বেগ। সম্প্রতি নোটিশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবারের। তাঁদের দাবি, চার থেকে পাঁচ দশক ধরে এই এলাকায় বসবাস করলেও এখন তাঁদের উচ্ছেদের মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, তাঁরা দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। শিলিগুড়ি শহরের বৈধ ভোটার হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স, বিদ্যুৎ বিল, পানীয় জলের বিল-সহ বিভিন্ন সরকারি কর পরিশোধ করে আসছেন। সেই কারণেই হঠাৎ উচ্ছেদের নোটিশ পেয়ে তাঁরা বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন।
বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এত বছর ধরে সরকারি পরিষেবা পাওয়া, কর প্রদান এবং প্রশাসনের নথিভুক্ত বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি থাকার পরও কীভাবে তাঁদের অবৈধ দখলদার বা বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে? তাঁদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বহু পরিবারের মাথার উপর থেকে ছাদ সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ৩১ তারিখ শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। সেই শুনানিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। তবে শুনানির ফল কী হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলির মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রশাসনের উচিত উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনে কর দেওয়ার পরও যদি শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদের মুখে পড়তে হয়, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হবে।
এখন ৩১ তারিখের শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। প্রশাসন তাঁদের বক্তব্যকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে শতাধিক পরিবারের ভবিষ্যৎ।





