নন্দীগ্রাম, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের ঠিক আগে জেল থেকে মুক্তি পেলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার পর বুধবার হলদিয়া জেল থেকে বেরোলেন তিনি। মুক্তি পেয়েই নন্দীগ্রামে প্রচারে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মিলন। একই সঙ্গে গ্রেফতারির সময় থেকে পুলিশি আচরণ নিয়ে একাধিক অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
জেল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিলনের দাবি, তাঁকে গ্রেফতারের সময় চোখে গামছা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, “চোখে গামছা বেঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল, ভাবছিলাম এনকাউন্টার করে দেবে।” পাশাপাশি পুলিশ তাঁকে নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিধানসভা উপনির্বাচন। নন্দীগ্রাম আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন। ভোটের আগে একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁর গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে প্রচার থেকে দূরে রাখতেই পুলিশি পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই আবহেই আদালতে জামিনের আবেদন করেন মিলন।
মঙ্গলবার হাই কোর্টের নির্দেশে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানার ছ’টি মামলায় ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন তিনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২১ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। ফলে ভোটের আগে প্রচারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত আর আইনি বাধা থাকছে না।
জেলমুক্তির পরই বুধবার থেকে প্রচারে নামার কথা ঘোষণা করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। নন্দীগ্রামের উন্নয়ন নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, জমি আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এই এলাকায় এখনও বহু মানুষ প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।
পাশাপাশি নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন-সংক্রান্ত পুরনো মামলাকে সামনে এনে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও তোলেন। মিলনের দাবি, তাঁকে নন্দীগ্রামে পৌঁছতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগের সত্যতা অবশ্য তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।
ভোটের আগে শেষ পর্বের প্রচারে এ বার সরাসরি মাঠে মিলন। তাঁর জেলমুক্তির পর নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন করে গতি এল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।





