শিলিগুড়ি, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ পাহাড়ের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আগামী ছ’মাসের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিল রাজ্য পর্যটন দফতর এবং জিটিএ। দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, মিরিক থেকে মংপু পর্যটনকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং হোমস্টে পরিষেবাকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যেই বুধবার শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে বৈঠক হয়।
বৈঠকে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী বিশাল নামা, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জেলাশাসক-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকেরা, কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক এবং জিটিএ-র আধিকারিকেরা। পাহাড়ের পর্যটনকে এলাকা ভিত্তিক পরিকল্পনায় সাজানোর পাশাপাশি দার্জিলিংকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
শুধু পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র নয়, নতুন আকর্ষণ তৈরিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। টি ফেস্টিভ্যাল, ভিন্টেজ কার র্যালি, ওয়াকাথন, রিভার ক্রাফটিং, প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাহাড়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বিশেষ উৎসব আয়োজনের কথাও ভাবা হচ্ছে। মহাকাল মন্দির, সেবকের কালীমন্দির, কালিঝোরার পুরনো বাংলো এবং মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলিকেও পর্যটন মানচিত্রে আরও কার্যকর ভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাহাড়ের পর্যটনে দীর্ঘদিনের সমস্যা যানজট। দার্জিলিংয়ের চাপ কমাতে রোপওয়ে ব্যবস্থার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পাঁচটি রোপওয়ে প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
হোমস্টে নিয়ে অবশ্য প্রশাসনের নজর অন্য দিকে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে এখনও বহু হোমস্টে নথিভুক্ত নয় বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে। পর্যটকদের পরিচয়পত্র ছাড়াই কিছু জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোন এলাকায় কত হোমস্টে নথিভুক্ত এবং কতগুলি এখনও রেজিস্ট্রেশনের বাইরে, সেই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে।
এর পাশাপাশি হোমস্টে রেজিস্ট্রেশন ও পুনর্নবীকরণ পুরোপুরি অনলাইনে আনার প্রস্তুতি চলছে। নতুন হোমস্টে তৈরির আবেদনও নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা যাবে। পর্যটন শিল্পের নীতি এবং হোমস্টে নীতিতেও পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে।
দুর্গাপুজোকেও পাহাড়ের পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দার্জিলিংয়ের চকবাজার ও ম্যাল রোড সাজানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পর্যটন দফতরের জমি ও সরকারি পর্যটন সম্পত্তির উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের বরাদ্দ ৫৭ কোটি টাকা কাজে লাগিয়ে এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে। আগামী ছ’মাসে পাহাড়ের পর্যটন পরিকাঠামো কতটা বদলায়, এখন সেটাই দেখার।





