নন্দীগ্রাম,২৪ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দানে প্রার্থী রয়েছেন তিনি, কিন্তু প্রচারের মাঠে নেই। পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়ে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ভোটের আগের দিন, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর হেফাজতের নির্দেশ রয়েছে। ফলে এ বার স্বামীর হয়ে নন্দীগ্রামে প্রচারে নামছেন স্ত্রী অর্পিতা প্রধান।
বৃহস্পতিবার কলকাতার বিধান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই ঘোষণা করলেন অর্পিতা। সঙ্গে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, দলের রাজ্য পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশী এবং দুই সাধারণ সম্পাদক পার্থ ভৌমিক ও আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। অর্পিতা জানান, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম বাজার থেকে প্রচার শুরু করবেন তিনি। তাঁর কথায়, এটি শুধু কংগ্রেসের লড়াই নয়, নন্দীগ্রামবাসীর লড়াই।
স্বামীর গ্রেফতারির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অর্পিতা। তাঁর অভিযোগ, এত পুরনো মামলায় ভোটের আগে মিলনকে গ্রেফতার করার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। একই মামলায় শুভেন্দু অধিকারীর নাম থাকার দাবি তুলে তাঁর প্রশ্ন, মিলন জেলে কেন এবং অন্যরা বাইরে কেন? তবে এটি অর্পিতার রাজনৈতিক অভিযোগ; পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম-পর্বের একাধিক পুরনো মামলায় দীর্ঘদিনের অ-জামিনযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করতেই মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদও জানান অর্পিতা। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর নেতৃত্বেই শুক্রবার থেকে এলাকায় প্রচার আরও জোরদার করা হবে।
এরই মধ্যে বিধান ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের দুই কর্মীর উপস্থিতি ঘিরেও সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। কংগ্রেস নেতারা তাঁদের উপস্থিতির কারণ জানতে চান। পরে তাঁরা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। কংগ্রেসের অভিযোগ, সাংবাদিক বৈঠক পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁদের পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে সরকারের কোনও বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, প্রার্থী জেলে আর তাঁর হয়ে মাঠে নামছেন স্ত্রী। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মিলনের অনুপস্থিতিই এখন কংগ্রেসের প্রচারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বার্তা হয়ে উঠেছে।











