শিলিগুড়ি, ৭ নভেম্বরঃ শিশুর শিক্ষাজীবনের প্রথম ধাপেই ভিত মজবুত করতে চাইছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক স্তরে পড়া, লেখা এবং অঙ্কের দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ অনুযায়ী ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি (FLN) কর্মসূচিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই শনিবার শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত হল বিশেষ কর্মশালা। উত্তরবঙ্গের ন’টি শিক্ষা জেলাকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষা, আবাসন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র দফতরের মন্ত্রী দীপক বর্মন।
মন্ত্রী জানান, এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ে জেলায় জেলায় এবং স্কুলে স্কুলে সেই প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক স্তরে শিশুদের অক্ষর চেনা, সাবলীলভাবে পড়তে শেখা, লেখার দক্ষতা এবং সাধারণ গণিতের ধারণা তৈরিতে নতুন পদ্ধতির উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা শ্রেণিকক্ষে আরও কার্যকরভাবে পড়াশোনা করাতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ দিন শিক্ষক নিয়োগের মেধাতালিকায় সংরক্ষিত শ্রেণির শংসাপত্র নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও মুখ খোলেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি গ্রুপ সি এবং ডিএ-র মেধাতালিকাতেও কয়েকটি নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে জাতিগত পরিচয় ও সংরক্ষণের শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, জাতিগত শংসাপত্র প্রদানের দায়িত্ব অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের (BCWD)। শিক্ষা দফতর মূলত শংসাপত্রে সংশ্লিষ্ট এসডিও-র স্বাক্ষর রয়েছে কি না, তা যাচাই করে। বৈধ শংসাপত্র ছাড়া কেউ সংরক্ষণের সুবিধা পেয়ে থাকলে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে শংসাপত্র প্রদানের প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে আপার প্রাইমারি এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরেও শিক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন মন্ত্রী। বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাথমিক স্কুলগুলি ফের চালুর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ এবং বন্ধ স্কুলের ভবিষ্যৎ এদিন এক কর্মশালাকে ঘিরে উঠে এল শিক্ষা ব্যবস্থার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।










