শিলিগুড়ি, ৭ নভেম্বরঃ নদিয়ার শান্তিপুরের ঐতিহ্য এবার ছড়িয়ে পড়ল উত্তরবঙ্গের রাজপথে। মশালের আলো, ঢাকের তালে ভক্তদের উন্মাদনা আর কাঁধে চেপে দেবীর নৃত্য সব মিলিয়ে শুক্রবার রাতে এক অন্য আবহে মেতে উঠল শিলিগুড়ি। শহরের সফদর হাশমি চকে বামাকালীর নাচ দেখতে উপচে পড়ল হাজার হাজার মানুষের ভিড়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকেও।
সুভাষপল্লীর তরুণ অ্যাথলেটিক ক্লাবের উদ্যোগে এবার শিলিগুড়িতে তুলে ধরা হল নদিয়ার শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী বামাকালীর নাচ। শুক্রবার রাতে কুমারটুলি থেকে মশাল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রতিমাকে নিয়ে আসা হয় পুজোমণ্ডপের উদ্দেশে। শোভাযাত্রার পথজুড়ে ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়। মশালের আলো আর ঢাকের আওয়াজে ক্রমশ উৎসবের রং গাঢ় হতে থাকে।
রাত তখন প্রায় ১০টা। শোভাযাত্রা এসে পৌঁছয় সফদর হাশমি চকে। এরপরই শুরু হয় মূল আকর্ষণ। ঢাকের তালে ভক্তদের কাঁধে চেপে নেচে ওঠেন বামাকালী। দেবীর সেই বিশেষ নৃত্য দেখতে মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। রাস্তার দু’পাশ, ফুটপাত থেকে শুরু করে আশপাশের বহুতলের বারান্দা সর্বত্রই ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। মোবাইলের ক্যামেরায় সেই দৃশ্য বন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে।
শুধু শিলিগুড়ি নয়, এই বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে বামাকালীর নাচের দৃশ্য। উত্তরবঙ্গের শহরে শান্তিপুরের এই ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা দর্শকদের কাছে যে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট শুক্রবার রাতের ভিড়েই।
তবে উৎসবের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে যান চলাচল ও নিরাপত্তা সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পুলিশকর্মীরা। সব মিলিয়ে মশালের আলো আর ঢাকের বাদ্যে শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির রাজপথ যেন হয়ে উঠেছিল শান্তিপুরের এক টুকরো প্রতিচ্ছবি।





