বারাকপুর, ২৫ মেঃ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের বড় ধাক্কার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার উত্তর বারাকপুর পুরসভায় একযোগে ইস্তফা দিলেন ১৫ জন কাউন্সিলর। বিধানসভা নির্বাচনে পুরসভা এলাকায় দলের খারাপ ফলাফলের দায় স্বীকার করেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু কাউন্সিলররাই নন, পরিস্থিতির দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন পুরপ্রধানও। এই ঘটনায় উত্তর বারাকপুর পুরসভায় কার্যত প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে।
২৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত উত্তর বারাকপুর পুরসভায় এর আগেই ৩ জন কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। বাকি সদস্যদের মধ্যে ১৫ জন একসঙ্গে ইস্তফা দেওয়ায় বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন কাউন্সিলররা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় অস্থিরতা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া ও গারুলিয়ার মতো একাধিক পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণ ইস্তফার ঘটনা সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল উত্তর বারাকপুর পুরসভা।
বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জনবিচ্ছিন্নতা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, সংগঠনকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলকে আরও সক্রিয় ও জনমুখী করতেই নতুন রূপরেখা তৈরির পরিকল্পনা চলছে বলেও দাবি তাঁদের।
এদিকে একের পর এক পুরসভায় বোর্ড টলমল অবস্থায় পৌঁছনোয় চিন্তা বাড়ছে তৃণমূল নেতৃত্বের অন্দরমহলে। এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহেই মমতা ব্যানার্জী কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সংগঠনকে মাটি আঁকড়ে রাখার বার্তা দিয়েছিলেন। এবার উত্তর শহরতলির দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, বরাহনগর এবং বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন-সহ একাধিক পুরসভার মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর।
সোমবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়িতে সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগেই উত্তর বারাকপুর পুরসভায় এই গণ ইস্তফার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


