খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ মার্চঃ উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র একটি অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক সম্মেলনে যোগ দিতে শিলিগুড়ি সফরে আসেন তিনি। মূলত বিধাননগর, শিলিগুড়ি-এ এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত গোসাইপুর, বাগডোগরা-এ সভাস্থল নির্ধারণ করা হয়। তবে সেখানে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা খুবই কম থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
শনিবার দুপুরে গোঁসাইপুরে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি লক্ষ্য করেন, সভাস্থলে গুটিকয়েক মানুষ উপস্থিত রয়েছেন। এমনকি তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন কেবলমাত্র শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। সাধারণত প্রোটোকল অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের কোনও মন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। তবে এদিন সেই নিয়ম পুরোপুরি মানা হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে।
গোঁসাইপুরে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি পরে বিধাননগর, শিলিগুড়ি-এ আদিবাসীদের সমাবেশে যোগ দেন। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, যদি অনুষ্ঠানটি বিধাননগরেই করা হত, তাহলে অনেক বেশি মানুষ উপস্থিত থাকতে পারতেন। তাঁর কথায়, সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এবং মানুষের যাতায়াতও সহজ।
রাজ্য প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, “জানি না কেন এখানে সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমন জায়গায় অনুষ্ঠান হচ্ছে, যেখানে মানুষের আসা কঠিন।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। কিন্তু হয়তো তিনি রাগ করেছেন বলেই আমাকে স্বাগত জানাতে নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি।”
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।





