কলকাতা, ২২ জানুয়ায়রিঃ বইমেলার মঞ্চে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় এজেন্সি, নির্বাচন কমিশন এবং SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন, এইসব এজেন্সির নামে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো ও হয়রানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি জানান, এই ‘হয়রানি’র প্রতিবাদেই তিনি কলম ধরেছেন এবং ইতিমধ্যেই ২৬টি কবিতা লিখে ফেলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ না খুললে তার ফল ভোগ করতে হবে সকলকেই। তাঁর বক্তব্য, “মানুষের বিপদ দেখে যদি কেউ চুপ করে থাকে, একদিন নিজেকেও বিপদে পড়তে হবে।” এই প্রসঙ্গেই তিনি SIR শুনানির নামে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তোলেন। মমতার দাবি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে, মানসিক চাপে পড়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গোটা পরিস্থিতিকে তিনি এজেন্সির ‘নির্যাতন’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
নিজের জীবনদর্শন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কাজ করতে ভালোবাসেন, কিন্তু নিজের প্রচার পছন্দ করেন না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত পংক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, “আমারে না যেন করি প্রচার, আমার আপন কাজে।” তবে সৃষ্টিশীল কাজ নিয়েও যে তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, সে কথাও স্মরণ করান। তিনি জানান, অতীতে তাঁর আঁকা ছবির দু’টি প্রদর্শনীর পরেই সিবিআই তদন্ত শুরু হয়েছিল। সেই সময় নিজেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত মনে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে সাহিত্যকেই বেছে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ২০২৬ সালকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা ও SIR ইস্যু নিয়ে তিনি ২৬টি কবিতা লিখেছেন। মাত্র দু-তিন দিনের মধ্যেই, হেলিকপ্টারে যাতায়াতের সময় এই কবিতাগুলি লেখা হয়েছে। তাঁর কথায়, “২৬-এ ২৬টা কবিতা লিখেছি। এই কবিতাগুলি ‘স্যার’ নামে বই আকারে প্রকাশিত হবে।”
বইমেলা প্রাঙ্গণকে আরও স্থায়ী ও আকর্ষণীয় করে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী ‘বইতীর্থ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান। মহাকালধাম বা জগন্নাথধামের আদলে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বই দিয়ে সাজানো একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। বইমেলার ৫০ বছর পূর্তিতে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশাও ব্যক্ত করেন।
এদিন নিজের ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সাতবারের সাংসদ ও দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি কখনও পেনশন বা বেতন নেননি। এই বাবদ প্রাপ্য অর্থ সরকারকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি সমালোচকদের কটাক্ষ নিয়েও বলেন, নিন্দুকদের গালিগালাজকেও তিনি ভালবাসেন।
উল্লেখ্য, এবারের বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রীর ৯টি নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে। এর ফলে তাঁর লেখা মোট বইয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬২-তে। বইমেলার মতো সাংস্কৃতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বার্তা ও সৃষ্টিশীলতার মেলবন্ধন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য এদিন বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে।





