কলকাতা, ৪ আগস্টঃ দীর্ঘদিন ধরেই খোঁজ নেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়ের। পুলিশি তল্লাশি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এমনকি লুক আউট নোটিস জারির পরেও তাঁর সন্ধান না মেলায় রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা। সেই আবহেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ‘আসল’ তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, “সুমিত খুন হয়ে যায়নি তো? খুন হয়ে গেলে অনেক কিছু ধামাচাপা পড়ে যাবে।”
মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ঋতব্রত দাবি করেন, উলুবেড়িয়ায় দলের কর্মীদের সঙ্গেও এ নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যেও একই আশঙ্কা ঘুরপাক খাচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সুমিত রায়ের দ্রুত তদন্তের মুখোমুখি হওয়া জরুরি। কারণ, তিনি তদন্তের আওতায় এলে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
প্রসঙ্গত, মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় আসে সুমিত রায়ের নাম। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার পাশাপাশি শালবনির জমি দুর্নীতি মামলাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মাসখানেক আগে শালবনি থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালালেও সুমিতের হদিস মেলেনি। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং লুক আউট নোটিস জারি হয়।
সোমবার ডেবরা-সংক্রান্ত একটি মামলায় আগাম জামিন পেলেও শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় স্বস্তি পাননি সুমিত। আদালত তাঁকে দশ দিনের মধ্যে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিন শুধু সুমিত নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে এমন কোনও দেশে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যেখানে ভারতের সঙ্গে বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তি নেই। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “চোখ দেখানোর অজুহাতে বিদেশে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিয়ে আশ্রয় চাইতেই পারেন।”
ঋতব্রতের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। যদিও তাঁর অভিযোগ ও আশঙ্কার বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর শিবিরের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।





