কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ পালাবদলের বাংলায় সংগঠন গোছানোর কাজ আরও জোরদার করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় বদলের পরিকল্পনা নিয়েছে সংঘ। সেই পুনর্বিন্যাসের কাজ কতটা এগোল, কোথায় কী পরিবর্তন প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা করতেই আগামী ৮ অক্টোবর বাংলায় আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। বর্ধমানে সংঘের একটি কর্মসূচিতে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা।
এ বার শুধু সাংগঠনিক বিস্তার নয়, সংগঠনকে আরও নিচুতলায় পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। আরএসএস সূত্রে খবর, এত দিন যে ‘প্রান্ত’ কাঠামোর মাধ্যমে সারা দেশে সংগঠনের কাজ পরিচালিত হত, তা ভেঙে আরও ছোট প্রশাসনিক একক ‘সম্ভাগ’ তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৪৪টি প্রান্ত রয়েছে। নতুন কাঠামোয় সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১১০টি সম্ভাগ হতে পারে।
এই পুনর্বিন্যাসের প্রভাব পড়বে বাংলাতেও। দক্ষিণবঙ্গের প্রান্তপ্রচার প্রমুখ বিপ্লব রায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে তিনটি প্রান্ত রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সেগুলি ভেঙে উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং কলকাতা এই পাঁচটি সম্ভাগের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে জেলা থেকে আরও নিচের স্তর পর্যন্ত সংগঠনের নজরদারি ও কাজের পরিধি বাড়বে।
শুধু কাঠামো বদল নয়, সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর উপরও জোর দিচ্ছে সংঘ। পালাবদলের আগে বাংলায় প্রায় পাঁচ হাজার শাখা ছিল বলে সংগঠনের দাবি। মহালয়ার মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ১ থেকে ১০ অক্টোবর রাজ্য জুড়ে একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন সদস্য ও স্বয়ংসেবকদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর পাশাপাশি বাংলার সংখ্যালঘু সমাজের কাছেও পৌঁছতে বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে আরএসএস। ‘মাইনরিটি সিটিজেন ফোরাম’-এর ব্যানারে আগামী ২ ও ৩ অক্টোবর ধনধান্য অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।
এরই মধ্যে শনিবার নিউটাউনে উদ্বোধন হয়েছে আরএসএসের নতুন কার্যালয় ‘কেশব স্মৃতি ভবন’। উপস্থিত ছিলেন সংঘের সর-কার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে। এত দিন মানিকতলার কেশব ভবন থেকেই কলকাতা-সহ পূর্বাঞ্চলের সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হত। কাজের পরিধি বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন কার্যালয়। তার পরেই ভাগবতের বঙ্গ সফর। ফলে শতবর্ষে পা দেওয়ার আগে বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।





