কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ ‘মৌসম বদলে গিয়েছে, জমানাও বদলেছে।’ ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তায় এ দিন বার বার উঠে এল সেই সুর। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ধর্মীয় পাঠ, প্রচার বা আচারে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। কেউ সাধু-সন্তদের অপমান বা ভয় দেখালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রবিবারের অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে নিজেও গীতার একটি অধ্যায় পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় ফের বড় আকারে গীতাপাঠের আয়োজন হবে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে সঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানান তিনি।
এই মঞ্চ থেকেই বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সাধু-সন্তরা সনাতন ধর্মের প্রচার করবেন একটি স্বাধীন দেশে সেটি তাঁদের অধিকার। কেউ সেই বক্তব্য বা প্রচার গ্রহণ করবেন কি না, তা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু কোনও সাধুর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে ধর্মীয় আচারের প্রসঙ্গও। গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ থেকে হনুমান চালিশা পাঠ কোনও ক্ষেত্রেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। শঙ্খ, মৃদঙ্গ, খঞ্জনি বাজিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সাধু-সন্তদের অপমান বা ভয় দেখানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেল পর্যন্ত হতে পারে।
তবে গীতাপাঠের মঞ্চ শুধু ধর্মীয় বার্তাতেই থামেনি। শ্রীরামপুরের সভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আজাদি’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের জবাব দেবে ‘রাষ্ট্রবাদী জনতা’।
সব মিলিয়ে ১১ হাজার কণ্ঠের গীতাপাঠের মঞ্চে ধর্মীয় আবহের মধ্যেই প্রশাসন, আইন এবং রাজনৈতিক বার্তা তিনটিকেই এক সুতোয় বাঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী।





